ইউএস ওপেনে অঘটনের জোয়ার! রথী-মহারথীদের বিদায়ের মাঝে কার্তিকের মতো লড়ছেন কারা?

ইউএস ওপেন ২০২৬-এর ফ্লাশিং মিডোজে সবসময়ই চরম স্নায়ুর লড়াই দেখা যায়, কিন্তু এবারের টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। দ্বিতীয় রাউন্ডের গণ্ডি পেরোতেই পুরো টুর্নামেন্টের সমীকরণ এক পলকে বদলে গিয়েছে। একদিকে যেমন চলছে তারুণ্যের জয়জয়কার, তেমনই অন্যদিকে খসে পড়ছে একের পর এক হেভিওয়েট তারকা। খেতাব ধরে রাখার কঠিন লড়াইয়ে নেমে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়রা রীতিমতো খাবি খাচ্ছেন। পুরুষদের ও মহিলাদের সিঙ্গলসে একের পর এক রথী-মহারথীর বিদায় নেওয়ার ফলে এটি যেন এক ঐতিহাসিক পালাবদলের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের টেনিস তারকারা যেভাবে নিজেদের প্রমাণ করছেন, তা গোটা ক্রীড়াবিশ্বে এখন তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

মহিলাদের সিঙ্গলসে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তথা আমেরিকার চার নম্বর তারকা কোকো গফ অবশ্য নিজের সেরাটা বজায় রেখেছেন। স্পেনের পাউলা বাদোসার বিরুদ্ধে তাঁর ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে ছিল চরম উত্তেজনা। প্রথম সেটে ৬-৪ গেমে জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় সেটে বাদোসা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান। তবে গফের নিখুঁত ব্যাকহ্যান্ড এবং ঘরের মাঠের দর্শকদের অদম্য সমর্থনের সামনে শেষরক্ষা হয়নি। ৬-৪, ৭-৬(৫) গেমে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি সোজা তৃতীয় রাউন্ডে পা রেখেছেন এবং বাকি প্রতিযোগীদের পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, নিউ ইয়র্কের এই চেনা মাটিতে তাঁকে হারানো মুখের কথা নয়।

তবে পুরুষদের ড্র-তে একের পর এক অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটে চলেছে। টেনিসপ্রেমীদের সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে বিদায় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ বাছাই তারকা অ্যালেক্স ডি মিনাউর। নেদারল্যান্ডসের বোটিক ভ্যান ডি জান্ডশুল্পের আগ্রাসী বেসলাইন উইনারের সামনে পাত্তাই পাননি তিনি। ৬-৪, ৭-৫, ৬-২ সেটে স্ট্রেট সেটে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন মিনাউর। অন্যদিকে, তৃতীয় বাছাই কানাডিয়ান তারকা ফেলিক্স অগার-আলিয়াসিমও কারেন খাচানভের বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তীব্র শারীরিক কসরতের মাঝে মাথা ঘুরে যাওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে মাঝপথেই ম্যাচ ছেড়ে দেন। এছাড়া ফরাসি কিংবদন্তি গায়েল মনফিসের বিদায়বেলায় তাঁর শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচে তাঁকে সরাসরি ৬-৩, ৬-৪, ৬-৩ সেটে উড়িয়ে দিয়েছেন আমেরিকার ১৪ নম্বর বাছাই টিনএজার লার্নার তিয়েন। তাঁর এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে যে মার্কিন টেনিসের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।

এত বড় বড় অঘটনের মাঝেও অবশ্য নিজেদের দাপট ও আধিপত্য বজায় রেখেছেন হেভিওয়েট তারকারা। দ্বিতীয় বাছাই এলেনা রিবাকিনা মাত্র এক ঘণ্টার একটু বেশি সময়ে জেসিকা বোজাস মানেইরোকে ৬-২, ৬-৩ সেটে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছেন। অষ্টম বাছাই ইগা শিয়নটেকও নাদিয়া পোডোরোস্কাকে ৬-৩, ৬-২ সেটে হারিয়ে নিজের নিখুঁত টেনিসের নিদর্শন রেখেছেন। পাশাপাশি, প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকাও দ্বিতীয় সেটে কিছুটা হোঁচট খেলেও ঘুরে দাঁড়িয়ে কাতেরিনা সিনিয়াকোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-১ সেটে পরাস্ত করে তৃতীয় রাউন্ডে নিজের জায়গা পাকা করেছেন।

বর্তমানে ফ্লাশিং মিডোজের চোখ এখন আসন্ন মেগা তৃতীয় রাউন্ডের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোর দিকে। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে কার্লোস আলকারাজ মুখোমুখি হচ্ছেন চিনের উ ইয়িবিংয়ের। অন্যদিকে জেসিকা পেগুলার বিরুদ্ধে লড়বেন লেইলা ফার্নান্দেজ এবং শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কা লড়বেন কামিলা রাখিমোভার বিরুদ্ধে। প্রথম সপ্তাহের এই নাটকীয় লড়াই পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান টেনিস কোর্টে অতীতের কোনো রেকর্ডের আর আলাদা করে কোনো মূল্য নেই। নতুনদের এই দুরন্ত উত্থান কি তবে আগামী দিনে টেনিসের ভবিষ্যৎ একেবারে বদলে দেবে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় মুখিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।