একাদশ শ্রেণীতেই ইতি পড়াশোনায়! বড় ভুল করেছিলেন করিনা? কোন আফসোসে পুড়ছেন বেবো?

বলিউডে তাঁর আকাশছোঁয়া সাফল্য আর গ্ল্যামার নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। সুদীর্ঘ অভিনয় কেরিয়ারে নিজের নামের পাশে একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট ছবি ও জনপ্রিয়তার মুকুট পরেছেন করিনা কাপুর খান। তবে এত সাফল্যের পরেও জীবনের একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে মনে মনে যে আজও গভীর আফসোস রয়েছে তাঁর, তা নিজেই খোলসা করলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের ফেলে আসা শিক্ষাজীবন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে করিনা জানান, জীবনের বড় ভুল ছিল একাদশ শ্রেণির পরেই পড়াশোনা পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া।

সম্প্রতি এক খোলামেলা আলাপচারিতায় করিনা জানান, পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে যাওয়ার এই বিষয়টি আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। যখন তাঁর বন্ধুরা পড়াশোনা বা কলেজ জীবন নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই বয়সেই অভিনয়ের বড় সুযোগ এসে কড়া নাড়ে তাঁর দরজায়। সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। পড়াশোনার লম্বা পথ ছেড়ে অভিনয়ের কন্টকাকীর্ণ দুনিয়াকেই নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন করিনা।

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বেবো জানান, রূপোলি পর্দায় নাম লেখানোর তীব্র জেদ ও ভালোলাগা তাঁর কাছে এতটাই প্রবল ছিল যে অন্য কোনো বিকল্প নিয়ে ভাবার ফুরসত পাননি। তিনি জানতেন, এই অল্প বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে অভিনয়ে নামলে অনেকেই তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ করতে পারেন বা নানা তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে দিতে পারেন। কিন্তু লোকে কী বলল, তাতে কান না দিয়ে সেদিন নিজের মনের কথা শুনেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্য একটাই ছিল, রূপোলি দুনিয়ায় নিজের কাজের মাধ্যমে নিজেকে একজন পাকা অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করা।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে করিনা মনে করেন, যদি সেদিন পড়াশোনাটা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতেন এবং শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ করতে পারতেন, তবে হয়তো অভিজ্ঞতা অন্যরকম হতে পারত। সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রেও তিনি শিক্ষার গুরুত্ব বারবার মনে করিয়ে দেন। তবে শত আফসোস থাকলেও, সেদিন নেওয়া সেই জুয়া খেলার মতো সাহসী সিদ্ধান্তই যে তাঁকে আজকের ‘বেবো’ করে তুলেছে, সে বিষয়েও অনুরাগীদের কোনো দ্বিমত নেই।