প্রাইভেট স্কুল ফেল! বিহারের এই প্রত্যন্ত সরকারি স্কুলের তাক লাগানো রূপ বদলে যাওয়ার গল্প

সাধারণত সরকারি স্কুলের নাম শুনলেই আমাদের মাথায় একটি চিরচেনা ছবি ভেসে ওঠে—ভাঙা চত্বর, পড়ুয়ার খামতি আর উদাসীন পরিবেশ। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিহারের জামুই জেলার ইসলামনগর আলিগঞ্জ ব্লকে অবস্থিত দিঘোট আপগ্রেডেড মিডল স্কুল। একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এই স্কুলটি সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিক পঠনপাঠনের দিক থেকে যেকোনো নামী বেসরকারি বা পাবলিক স্কুলকে অনায়াসে পেছনে ফেলে দিতে পারে। এর পরিকাঠামো এবং কার্যপ্রণালী দেখলে যে কেউ এককথায় অবাক হয়ে যেতে বাধ্য।

প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চলা এই সরকারি বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ৫৫৩ জন ছাত্রছাত্রী অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পড়াশোনা করছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখানকার দৈনিক উপস্থিতির হার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে স্কুলের এক সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় পরিবেশ, যার কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রতিদিন স্কুলে আসার জন্য মুখিয়ে থাকে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে সাতজন পুরুষ ও দুজন মহিলা শিক্ষক সহ মোট নয়জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি, মিড ডে মিল (MDM) তৈরির জন্য পাঁচজন রাঁধুনি নিযুক্ত আছেন। প্রতিদিন সকাল ঠিক ৯টায় নির্ধারিত নিয়মে স্কুল শুরু হয়, যার পর থেকেই শুরু হয় এক ব্যতিক্রমী শিক্ষাকার্যক্রম।

এই স্কুলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তাদের প্রতিদিনের ১৫ মিনিটের বিশেষ সচেতনতামূলক অধিবেশন। সাধারণ পাঠ্যসূচির বাইরে এই অল্প সময়ে শিশুদের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারদর্শী করে তোলা হয়। পরদিন কোন বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস হবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আগেরদিনই তৈরি করা হয়। যেমন—৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়। এই অধিবেশন চলাকালীন শিশুদের যোগব্যায়াম শেখানো হয়, মনীষীদের জীবনদর্শন ও বিখ্যাত উক্তি শোনানো হয় এবং তাদের অনুশাসন ও জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার পথ বাতলে দেওয়া হয়।

পিএম শ্রী (PM SHRI) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এই বিদ্যালয়টি শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিহার জুড়ে যেখানে স্কুলছুট বা পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার হার একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, সেখানে দিঘোট আপগ্রেডেড মিডল স্কুল এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে। এখানে স্কুলছুটের হার মাত্র ১.৫ শতাংশ। একবার কোনো শিশু এখানে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করলে তার পড়াশোনা সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্ণ নিশ্চয়তা থাকে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ এই গ্রামীণ স্কুলটি বিহারের মুকুটে এক উজ্জ্বল রত্ন হয়ে উঠেছে।