দিশা সালিয়ান মৃত্যু মামলায় বিরাট মোড়, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বোম্বে হাইকোর্টের!

প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যু মামলায় এক চাঞ্চল্যকর ও ঐতিহাসিক মোড় নিয়ে এল বোম্বে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়। আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী, আলোচিত এই মামলার সম্পূর্ণ তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CBI)-এর হাতে। শুধু তাই নয়, হাইকোর্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই ঘটনায় অবিলম্বে একটি নতুন এফআইআর (FIR) দায়ের করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করতে হবে। দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের ভিত্তিতেই এই রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে নানান প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী নীতেশ রানে হাইকোর্টের এই রায়কে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেছেন, “আমরা প্রথম দিন থেকেই দৃঢ়ভাবে বলে আসছি যে এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা ছিল না, এটি একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। এখন ধীরে ধীরে সমস্ত লুকানো সত্য সামনে আসতে শুরু করেছে। আমি গভীর আশাবাদী যে আমাদের বোন দিশা সালিয়ানের সঙ্গে যে চরম অবিচার করা হয়েছে এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছিল, তার সবকিছুর মুখোশ এবার খুলে যাবে।”

আদিত্য ঠাকুরের নীরবতা নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন নীতেশ রানে। তিনি বলেন, “সত্যকে যতই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখবেই। আদালতের এই রায়ে দিশার বাবা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। আমি শুরু থেকেই দাবি করে আসছি যে দিশাকে খুন করা হয়েছে, যার জেরে আমাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত সহ্য করতে হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছিল, গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং বহু সাংবাদিকের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু খুব শীঘ্রই সব সত্য প্রকাশ পাবে। যদি আদিত্য ঠাকরে, ডিনো মোরিয়া বা অন্য কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নাই থাকেন, তবে তাদের এই রহস্যজনক নীরবতার অর্থ কী? এই নীরবতাই অনেক কিছু পরিষ্কার করে দেয়।”

অন্যদিকে, এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের অপর মন্ত্রী যোগেশ কদম বলেন, “আমি আদালতের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনামাটি এখনও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ে দেখিনি। তবে যেহেতু এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে অর্পণ করা হয়েছে, তাই আদালত যা নির্দেশ দেবে, আমরা তার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে তা মেনে নেব। বড় বড় নামগুলোর বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শেষ হলেই আসল সত্যিটা সামনে আসবে।”

উল্লেখ্য, সেলিব্রিটি ম্যানেজার দিশা সালিয়ান ২০২০ সালের ৮ জুন রাতে মুম্বাইয়ের মালাড এলাকার একটি বহুতল ভবনের চৌদ্দ তলা থেকে রহস্যজনকভাবে নিচে পড়ে মারা যান। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত তাঁর বান্দ্রার বাসভবনে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের মাত্র কয়েকদিন আগে দিশার এই মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দিশার বাবার আইনজীবী নীলেশ ওঝা জানিয়েছেন, আদালত সিবিআইকে সতীশ সালিয়ানের জবানবন্দি রেকর্ড করতে এবং মামলার তদন্তের জন্য একজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে হাইকোর্ট তীব্র অসন্তोष প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে, পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রকৃত এফআইআর দায়ের না করে কেবল একটি আকস্মিক মৃত্যু প্রতিবেদন (ADR) দাখিল করেছিল। এমনকি ঘটনার এতদিন পরেও পরিবারকে ময়নাতদন্তের মূল রিপোর্ট এবং এডিআর-এর কপি পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়নি।