গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে যাওয়ার মুখে ঐতিহাসিক স্কুল! ভাঙন রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল রাজ্য প্রশাসন!

মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনি দিয়ারা অঞ্চলের পশ্চিম রতনপুর এলাকায় গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙন পরিস্থিতি দিন দিন অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করায় রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিউজ ১৮ বাংলার খবরের জেরে এই বিপর্যয় এবার সরাসরি নবান্নের শীর্ষ কর্তাদের নজরে চলে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, ভূতনি এলাকায় দ্রুত পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য খোদ জেলাশাসক এবং সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনাটির ওপর কড়া নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গার জলের তোড়ে ভূতনি এলাকার নিচু অংশগুলিতে নতুন করে জল ঢুকতে শুরু করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেচ দফতরের আধিকারিকেরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

তবে প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, বিকল্প বাঁধ নির্মাণের এই প্রক্রিয়ায় কিছু নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। ফলস্বরূপ, ওই এলাকার সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নবান্নের শীর্ষ কর্তারা ইতিমধ্যেই মালদার জেলাশাসকের কাছ থেকে পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই মানিকচক ব্লকের পশ্চিম রতনপুরে গঙ্গার ভাঙন এমন এক দানবীয় রূপ ধারণ করেছে যে, নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। নদীর গ্রাস এতটাই তীব্র যে, পাড় থেকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মিটার দূরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এলাকার একমাত্র প্রাণকেন্দ্র—ঐতিহাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলভবনটি এখন পুরোপুরি ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল আশঙ্কা, যে অবিশ্বাস্য গতিতে গঙ্গা এগিয়ে আসছে, তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আস্ত স্কুলটি নদীগর্ভে চিরতরে তলিয়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে গত মঙ্গলবারই এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে ছুটে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং ব্লক প্রশাসনের একাধিক প্রতিনিধি। উল্লেখ্য, গত বছরও গঙ্গার আগ্রাসী ভাঙনে পশ্চিম রতনপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছিল এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। এ বছর বর্ষার শুভ সূচনা হতেই ফের নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় থেকে হুড়মুড় করে মাটি ধসে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। বহু পরিবার তাঁদের সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীবাঁধের ওপর পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বঞ্চনার শিকার হওয়া এই সমস্ত অসহায় মানুষের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে তাঁদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং একই সঙ্গে গঙ্গার গ্রাস থেকে গ্রামটিকে বাঁচাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। সাধারণ মানুষের এই আর্তনাদ ও নবান্নের শীর্ষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপে এখন সকলের নজর মালদার ভূতনি দিয়ারার দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।