রাতের ক্যামাক স্ট্রিটে চরম উত্তেজনা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে রহস্যজনক অনুপ্রবেশে শিউরে উঠবে রাজ্য!

গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ে বসল কলকাতার অভিজাত ক্যামাক স্ট্রিটে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস চত্বরে রাতের অন্ধকারে ৬ জন অপরিচিত ব্যক্তির রহস্যময় উপস্থিতি ঘিরে গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বহুতলের উপর অবস্থিত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ওই ছয় সন্দেহভাজন আগন্তুককে আচমকাই ঢুকে পড়তে দেখা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত খবর পাঠানো হয় স্থানীয় থানায়। খবর পাওয়া মাত্রই শেক্সপিয়ার সরণি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই ছ’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, গভীর রাতের এই অনুপ্রবেশ নেহাত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এর পেছনে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। এদিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে আটক হওয়া ওই ব্যক্তিরা বিরোধী দল বিজেপির দুষ্কৃতী কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যদিকে, শাসকদলের এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক কোনো পার্টি অফিস রয়েছে কি না তা তাঁর জানা নেই। তবে যদি এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক, এর সঙ্গে বিজেপির দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো যোগ নেই।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে যে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল অফিসের ঠিক পাশেই ‘ইন্ডাস্ট্রি হাউজ’-এর নিচে একটি এলইডি টিভি রাখা রয়েছে, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকেই আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুমান। সেই ইলেকট্রনিক ডিভাইসটিসহ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে দেশের মহামহিম রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ক্যামাক স্ট্রিট অফিসের আশেপাশের চত্বরে পুলিশ ও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।