‘বাঙালির অহংকার উত্তম কুমার দ্বিতীয়বার হবে না!’ মহানায়কের জন্মদিনে টালিগঞ্জ থেকে এল ঐতিহাসিক ঘোষণা!

বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক দিনে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইকন এবং বাঙালির আবেগের সমার্থক মহানায়ক উত্তম কুমারের শততম জন্মবার্ষিকী পালিত হলো। বিশেষ এই ঐতিহাসিক দিনে বাংলা সিনেপ্রেমীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন মহানায়ক। এদিনের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে টালিগঞ্জে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। প্রথা ভেঙে এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে দিয়ে প্রথমে মাল্যদান করান। মহানায়কের জন্মশতবর্ষের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একঝাঁক তারকা—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, জিৎ, রত্না ঘোষাল, প্রবীণ পরিচালক গৌতম ঘোষ সহ টলিউডের সঙ্গে যুক্ত বর্তমানের একাধিক বিধায়করাও। উপস্থিত ছিলেন খোদ মহানায়কের পরিবারের সদস্যরাও।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যজুড়ে উত্তম কুমারকে নিয়ে বছরভর বিভিন্ন জমকালো অনুষ্ঠানের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে যেমন রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল, ঠিক তেমনই মহানায়কের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার রাজারহাটে ‘উত্তম কুমার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান’-এর ভূমিপুজো ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। এছাড়া চার দিনব্যাপী পদযাত্রা, কেক কাটা, পায়েস বিতরণ সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তমমঞ্চকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকারও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সকাল সকাল মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, যা সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। সবশেষে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে মৃত্যুর দিন নয়, বরং মহাসমারোহে মহানায়কের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও মহানায়কের ছবি দিয়ে বিশেষ কয়েন ও ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এই শতবর্ষের উদযাপনের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।