বাবর আজমের ব্যক্তিগত জীবনের গোপন অধ্যায় ফাঁস! বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক থেকে গর্ভপাত—কী এমন করেছিলেন পাক তারকা?

পাক ক্রিকেটের মহাতারকা বাবর আজম তাঁর নান্দনিক কভার ড্রাইভ এবং চোখ জুড়ানো ব্যাটিংয়ের সুবাদে গোটা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। তবে সবুজ জার্সিতে তাঁর রেকর্ডের খাতা যতটা উজ্জ্বল ও ঝকঝকে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং মাঠের বাইরের বিতর্ক ঠিক ততটাই কালো ও অন্ধকার অধ্যায়ে ভরপুর। বিভিন্ন সময়ে নানা প্রেমের গুঞ্জন, রোমাঞ্চকর সম্পর্কের গুঞ্জন এবং গুরুতর অভিযোগে বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের এই প্রাক্তন অধিনায়ক। বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে তিনি বহু স্মরণীয় জয় এনে দিলেও ব্যক্তিগত জীবনের নানামুখী বিতর্কের জেরে একাধিকবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।

বাবর আজমের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা কম হয়নি। বিভিন্ন রিপোর্ট ও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের অন্তত চারজন মহিলার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে এসেছে। তবে বাবর আজমের জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে গুরুতর বিতর্কটি দানা বেঁধেছিল ২০২০ সালে। সে সময়ে লাহোরের এক বাসিন্দা হামিজা মুক্তার নামের এক মহিলা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বাবর আজমের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ মারাত্মক ও বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। হামিজার দাবি ছিল, তাঁরা দুজনেই ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক বজায় ছিল। হামিজার আরও অভিযোগ ছিল, বাবর তাঁকে বিয়ের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং যখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন, তখন বাবর তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। আদালতে এই মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই গোটা ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।

শুধু আইনি জটিলতা বা আদালতের অভিযোগই নয়, শোবিজ জগতের সঙ্গেও বাবরের নাম একাধিকবার জড়িয়েছে। পাকিস্তানি জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে বাবরের প্রেমের গুঞ্জন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সেই গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল ফ্যানদের তৈরি কিছু এডিটেড ভিডিওর মাধ্যমে, যেখানে দুজনকে একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়াও, পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও মডেল দোওয়া জোহরা একটি জনপ্রিয় টিভি শো-তে প্রকাশ্যে বাবর আজমকে তাঁর ‘ক্রাশ’ বলে উল্লেখ করার পর জল্পনা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বহু নারী বাবরের প্রতি তাঁদের গভীর ভালোবাসা ও আকর্ষণের কথা প্রকাশ করেছেন, যা বারবার তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে।

ব্যক্তিগত জীবনের হাজারো বিতর্ক এবং ঝড়-ঝাপটার মাঝেই অবশ্য নিজের পেশাগত জীবনে সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছেন বাবর আজম। তাঁরই অধিনায়কত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট দল টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় সিরিজ জয় করেছে। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট, ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টি—এই তিন ফরম্যাটেই নিজের ধারাবাহিক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। এমনকি ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজেও তিনি সফলভাবে দলের নেতৃত্ব সামলেছেন। সব মিলিয়ে, মাঠের ভেতরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরের তীব্র বিতর্ক—এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই বাবর আজমের বর্ণময় ক্যারিয়ার এক অন্য মাত্রা পেয়েছে।