শত্রু সীমানায় না গিয়েই ১৪০ কিমি দূর থেকে ধ্বংসলীলা! ভারতীয় বিমান বাহিনীর ব্রহ্মাস্ত্রের সফল পরীক্ষা!

ভারতীয় বায়ুসেনা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার গ্লাইড বোমা ‘খাগন্তক-২৪৩’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই ঐতিহাসিক পরীক্ষাটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ভারতীয় বিমান বাহিনী শত্রুর সীমানায় সরাসরি প্রবেশ না করেই দূর থেকে নিখুঁত আক্রমণ হানার সক্ষমতা জোরদার করার দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সমস্ত লক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত উদ্দেশ্য সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে যৌথভাবে তৈরি করেছে বিশিষ্ট ভারতীয় বেসরকারি সংস্থা জেএসআর ডায়নামিক্স এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল)।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, খাগন্তক-২৪৩ হলো প্রায় ৩০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি উচ্চমানের নির্ভুলভাবে পরিচালিত গ্লাইড বোমা। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ১২ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে এটি ১৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এমনকি কিছু গোপনীয় প্রতিবেদনে এর সম্ভাব্য পাল্লা ১৪৪ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গ্লাইড বোমা এমন এক ধরনের অস্ত্র যা বিমান থেকে ফেলার পর মাধ্যাকর্ষণ এবং এর গায়ে থাকা বিশেষ ডানার সাহায্যে বাতাসে ভেসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। এর ফলে যুদ্ধবিমানকে শত্রু দেশের আকাশসীমার গভীরে বা লক্ষ্যের ঠিক উপরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না, যা স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক হিসেবে পরিচিত।
খাগন্তক-২৪৩-এর নকশাটি একটি অত্যন্ত নিখুঁত নলাকার কাঠামোর উপর তৈরি, যার কেন্দ্রীয় অংশে ঘূর্ণনশীল গ্লাইড উইং এবং পেছনের অংশে পাঁচটি নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ রয়েছে। অস্ত্রটিতে প্রায় ১২৫ কেজি ওজনের একটি এমকে ৮১ সাধারণ-উদ্দেশ্যমূলক বিস্ফোরণ-বিভাজন ওয়ারহেড সংযুক্ত করা হয়েছে, যা শত্রুর যেকোনো সুরক্ষিত ঘাঁটি নিমিষেই ধূলিসাৎ করতে পারে। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব ইঞ্জিন ও চালনা ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু গ্লাইড বোমার কোনো নিজস্ব প্রোপালশন সিস্টেম না থাকায় এগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং কার্যকর। ভারতের প্রধান যুদ্ধবিমান সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই-এর সাথে এর সফল পরীক্ষা আগামী দিনে দেশের আকাশ নিরাপত্তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে খাগন্তক-২৪৩-এর এই সাফল্য ভারতের সামরিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।