“মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের জল্পনা!”-১৬-১৭টি নতুন মুখে ভরসা রাখতে চলেছেন মোদী?

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নতুন সাংগঠনিক দল গঠনের পর থেকেই মোদী সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। এই প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের ফলে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে এবং তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন একদল তরুণ ও নতুন মুখ। মূলত ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে গেরুয়া শিবির।
পডকাস্টে জল্পনা এবং মন্ত্রীদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন
সম্প্রতি ‘আজ তক রেডিও’-র পডকাস্ট ‘রিপোর্টার্স অফ এয়ার’-এ মোদী সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে একটি বিশদ আলোচনা হয়। সেখানে কোন নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে চলেছেন এবং কাদের বাদ দেওয়া হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওই পডকাস্টের আলোচনা থেকেই ইঙ্গিত মিলেছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের পদোন্নতি হতে পারে এবং নীতিন গড়করির মন্ত্রক বদল করা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ জন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জোরালো খবর রয়েছে।
বিজেপির অন্দরে এখন মন্ত্রীদের কর্মক্ষমতা বা পারফরম্যান্সের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মন্ত্রীর কাজের নিয়মিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কারণ, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বা পাঞ্জাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ২০২৯ সালের লোকসভা যুদ্ধ জেতার জন্য দল যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। সম্প্রতি একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সমস্ত মন্ত্রীদের স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূল স্তরে নেমে কাজ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
শূন্য পদের হিসাব ও মন্ত্রক পুনর্বণ্টন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৮১ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। বর্তমানে মোদী মন্ত্রিসভায় মোট ৬৯ জন মন্ত্রী কাজ করছেন, যার ফলে এখনও ১২টি মন্ত্রীর পদ শূন্য রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহু নতুন মুখকে দেখা যেতে পারে। এমনকি জোট শরিক দলগুলি থেকেও নতুন প্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে মন্ত্রিসভার ১৪ জন মন্ত্রী একাধিক পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত বড় মন্ত্রক, তাই সেখানেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও, যে সমস্ত মন্ত্রীদের হাতে একসঙ্গে ৩ থেকে ৪টি মন্ত্রকের দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমিয়ে সেই বিভাগগুলি অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।
কবে হতে পারে রদবদল?
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরের মধ্যেই মোদী ক্যাবিনেটের এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ ও বড় রদবদলটি সম্পন্ন হতে পারে। শীর্ষ ৫টি মন্ত্রকের মধ্যে কোনো একটিতে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে তা হয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দুর্বল কর্মক্ষমতার জন্য নয়, বরং নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।