ব্রেকফাস্টে বড় ধাক্কা! মাত্র এক বছরে ৪০ শতাংশ দাম বাড়ল ডিমের, নেপথ্যে কি তবে কেন্দ্রের ই-২০ নীতি?

গত এক বছরে ভারতে হু-হু করে বেড়েছে ডিমের দাম। সাধারণ মানুষের প্রোটিনের থালায় টান পড়ার এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, শীতের মরশুম আসার আগেই এই মূল্যবৃদ্ধি কেন থামছে না? বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর পেছনে সরাসরি ভূমিকা রয়েছে দেশের ই-২০ জ্বালানি নীতির এবং ইথানল উৎপাদনের জন্য ভুট্টার বিপুল ব্যবহার।

Ei Samay

ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটি (NECC)-র তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ডিমের দাম প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে খামার বা ফার্ম পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৭ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের শহরের খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৮.৩০ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত। পোলট্রি শিল্প মহলের আশঙ্কা, শীতকাল এলেই ডিমের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই অনেকটাই বেড়ে যায়, ফলে আগামী দিনে এই দাম আরও চড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Ei Samay+ 2

ইথানল উৎপাদন কীভাবে বাড়াচ্ছে ডিমের দাম?

Aaj Tak Bangla

পুরো বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে মুরগির খাবারের মূল উপাদান ভুট্টার সঙ্গে। পোলট্রি খাদ্যের একটি বিরাট অংশ জুড়ে থাকে ভুট্টা। কিন্তু বর্তমানে দেশের মোট ভুট্টা উৎপাদনের একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে ইথানল তৈরির কাজে। পেট্রোলের সঙ্গে ইথানলের মিশ্রণ বাড়াতে সরকারি নীতির জেরে শিল্প ক্ষেত্রে ভুট্টার চাহিদা আকাশছোঁয়া।

Ei Samay+ 2

এর ফলে পোলট্রি খামারিদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সস্তায় ভুট্টা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি নীতির জেরে একদিকে যখন ইথানল উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, ঠিক তখনই তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পোলট্রি খাদ্য ও সামগ্রিক উৎপাদন খরচের ওপর। ফলস্বরূপ, পথমাফিক জোগান না মেলায় মার খাচ্ছে পোলট্রি শিল্প, যা সরাসরি পকেট কাটছে সাধারণ ক্রেতার।