মহারাষ্ট্রে বড় ধাক্কা! ৭ যুগের বাধ্যতামূলক হিন্দি পরীক্ষা বাতিল করল একনাথ শিন্ডে সরকার!

মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এক অত্যন্ত বড় এবং যুগান্তকারী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের কর্মরত কর্মচারীদের জন্য গত ৭০ বছর ধরে চলে আসা বাধ্যতামূলক হিন্দি ভাষা পরীক্ষা বাতিল করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি নির্দেশিকা বা জিআর জারি করা হয়েছে। মূলত ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে তৎকালীন সরকারের আমলে এই হিন্দি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পরীক্ষাটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের যুক্তি অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্ট বা সরকারি ভাষা আইন অনুযায়ী এই ধরনের হিন্দি পরীক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সমীচীন বা যৌক্তিক নয়। কারণ, মহারাষ্ট্র রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের সমস্ত দপ্তরের প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং দাপ্তরিক আদান-প্রদান প্রধানত মারাঠি ভাষাতেই সুচারুভাবে সম্পাদিত হয়ে আসছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহারাষ্ট্র অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্টের আইনি সংস্থান এবং বর্তমান প্রশাসনিক কাজের প্রকৃত স্বরূপ বিবেচনা করে হিন্দি ভাষা পরীক্ষার এই পুরনো নিয়ম আর জিইয়ে রাখা ঠিক নয়। বর্তমান সময়ে সরকারি কাজকর্ম বা নথিপত্রে হিন্দি ভাষার ব্যবহার কার্যত না বললেই চলে। পাশাপাশি, কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও অন্যান্য রাজ্যগুলির সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ বা পत्राचारের ক্ষেত্রে সাধারণত ইংরেজি ভাষাকেই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রাজ্য সরকারের জারি করা এই নতুন সরকারি প্রস্তাব বা জিআর এই বিষয়ের ওপর অতীতে জারি হওয়া সমস্ত পূর্ববর্তী জিআর, সার্কুলার এবং প্রশাসনিক আদেশনামাকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল ও প্রতিস্থাপিত করবে।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে, বর্তমান মহারাষ্ট্র রাজ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হওয়ারও বহু আগে তদানীন্তন সরকার রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রমে হিন্দি ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছিল এবং সরকারি কর্মচারীদের চাকরি টিকিয়ে রাখতে বা পদোন্নতির জন্য এই হিন্দি ভাষা পরীক্ষায় পাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে মহারাষ্ট্র রাজ্য গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক কাজকর্মের প্রধান ভাষা হিসেবে মারাঠি তার নিজস্ব গরিমা বজায় রেখেছে। এই পরীক্ষাটি সাধারণত বছরে দুবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হতো এবং রাজ্যজুড়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ জন সরকারি কর্মী এই পরীক্ষায় অংশ নিতেন। তবে এই দীর্ঘমেয়াদী নিয়মটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক চলছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা বা এমএনএস, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা তথা এসইউবিটি এবং একাধিক বিশিষ্ট মারাঠি ভাষা রক্ষা কমিটির কর্মীরা এই বাধ্যতামূলক হিন্দি পরীক্ষার তীব্র বিরোধিতা করে পথে নেমেছিলেন। তাঁরা কড়া আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, এটি আদতে মহারাষ্ট্রের মাটিতে জোর করে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার এক সুগভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত। এই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে গত মে মাসেই মহারাষ্ট্র সরকারের শিল্প ও মারাঠি ভাষা বিষয়ক মন্ত্রী উদয় সামন্ত আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা সেই বিতর্কিত পরীক্ষাটির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। অবশেষে সেই স্থগিতাদেশকে স্থায়ী রূপ দিয়ে দীর্ঘ সত্তর বছরের নিয়মের অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার।