নবান্নের কড়া নির্দেশ আসতেই ধুন্ধুমার! হুগলিতে বেআইনিভাবে চলা নামী বেকারি সিল করল প্রশাসন

রাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নবান্নের কড়া নির্দেশ জারির পরেই তৎপর হলো জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে জেলায় জেলায় ফুড সেফটি বা খাদ্য সুরক্ষা বিধি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ ‘ফুড সেফটি সপ্তাহ’। আর এই অভিযানের প্রথম দিনেই হুগলির ভদ্রেশ্বর পৌরসভা এলাকায় এক যৌথ অভিযানে নেমে চক্ষু চড়কগাছ হলো প্রশাসনিক আধিকারিকদের। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেআইনিভাবে বিস্কুট ও পাউরুটি তৈরির অভিযোগে ভদ্রেশ্বরের একটি নামী বেকারি অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ফুড সেফটি আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল, ভদ্রেশ্বর পৌরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক (ইও) এবং স্থানীয় থানা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা যৌথভাবে এই আকস্মিক অভিযানে অংশ নেন। প্রথমে শহরের একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে ও তার কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে কারখানার ভেতরে তেল ও কালির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে মালিকপক্ষকে এক সপ্তাহের কড়া সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর ভদ্রেশ্বরেরই অপর একটি বড় বেকারিতে প্রবেশ করতেই তাজ্জব বনে যান খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। সেখানে ন্যূনতম খাদ্য সুরক্ষার বালাই ছিল না। কারখানায় মাছি ভনভন করছিল এবং সেখানে কর্মরত কারিগরদের হাতে কোনো গ্লাভস, মাথায় ক্যাপ বা মুখে মাস্কের মতো সুরক্ষামূলক আবরণ পর্যন্ত ছিল না।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। বিস্কুট তৈরিতে ডিমের মতো উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করা হলেও প্যাকেটের গায়ে তার কোনো আইনি উল্লেখ বা লেবেলিং ছিল না। দমকল দপ্তরের কোনো রকম বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই সেখানে পুরোদমে বেকিংয়ের ভাটি চালানো হচ্ছিল। কারখানার ছাদ জুড়ে ঝুলছিল নোংরা ও ময়লার আস্তরণ, আর ঠিক তার নিচেই অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি হচ্ছিল বিস্কুট, টোস্ট ও পাউরুটির মতো খাদ্যসামগ্রী। শুধু তাই নয়, খাবারে স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙ ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে। এই গুরুতর অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার বিষয়টি নজরে আসাতে আধিকারিকরা তাৎক্ষণিকভাবে বেকারি থেকে বিভিন্ন বিস্কুটের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠান।

প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সরকারের নির্ধারিত গাইডলাইন ও ফুড সেফটি প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতেই হবে। যতদিন না কারখানা চত্বর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে, ততদিন এই বেকারিটি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বেকারির মালিক ও কারিগররা খাদ্য সুরক্ষায় তাঁদের গুরুতর খামতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সরকারি সমস্ত নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।