মাসিকের ব্যথায় ককিয়ে ওঠেন? ডায়েটে এই ছোট্ট বদল আনলেই নিমেষে উধাও হবে কষ্ট!

মহিলাদের দৈনন্দিন জীবনে পিরিয়ডের সময়কার অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা ও ক্লান্তি এক অতি পরিচিত এবং যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ নারীই এই বিশেষ দিনগুলোতে তীব্র পেটব্যথা, চরম ক্লান্তি এবং মুড সুইংয়ের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শারীরিক সমস্যার পেছনে জীবনযাত্রার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সঠিক পুষ্টির অভাব পিরিয়ডের কষ্টকে আরও বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়। প্রখ্যাত সিনিয়র স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আইভিএফ স্পেশালিস্ট ডা. বৈশালী শর্মা সম্প্রতি এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন, যা প্রতিটি নারীর জেনে রাখা প্রয়োজন।
ডা. শর্মার মতে, মানবদেহে আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে পিরিয়ডের দিনগুলো অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শরীরে আয়রনের অভাব ঘটলে অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তপাতের কারণে শরীর থেকে যে পরিমাণে আয়রন বেরিয়ে যায়, তার ঘাটতি পূরণ না হলে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, কাজে মনোযোগের অভাব এবং মেজাজের চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পালং শাক, মসুর ডাল এবং রাজমা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া আমিষভোজীরা খাদ্যতালিকায় কিছুটা লিন রেড মিট রাখতে পারেন। শরীরে আয়রন সঠিকভাবে শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি অত্যন্ত জরুরি, তাই লেবু, টমেটো এবং কমলার মতো ফল ডায়েটে রাখা বাধ্যতামূলক।
আয়রনের পাশাপাশি পেশি শিথিল করতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে ম্যাগনেসিয়ামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যেসব নারীর শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকে, তাঁরা পিরিয়ডের সময় তীব্র ক্র্যাম্প বা ডিসমেনোরিয়ার শিকার হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার বা সঠিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে জরায়ুর পেশি শিথিল হয়, যা সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে দেয়। কুমড়োর বীজ, বিভিন্ন বাদাম, পাকা কলা এবং অন্তত ৭০ শতাংশ কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট ম্যাগনেসিয়ামের চমৎকার উৎস।
পাশাপাশি, পিরিয়ডের ব্যথার নেপথ্যে থাকা মূল প্রস্টোগ্ল্যান্ডিন হরমোনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জাদু জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। এটি জরায়ুর অতিরিক্ত সংকোচন কমিয়ে ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আখরোট, ফ্লাক্স সিড বা তিসি এবং স্যামন মাছের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার রাখলে পিরিয়ডের ব্যথা থেকে শুধু শারীরিক মুক্তিই মেলে না, বরং মানসিক শান্তিও পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র ক্ষতিকর পেইনকিলার ওষুধের ওপর ভরসা না রেখে সঠিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই মাসিকের এই চিরন্তন যন্ত্রণা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।