নদীতে তলিয়ে গেল স্কুল ভবন! মালদায় পঠনপাঠন বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও নির্মম রূপ দেখল মালদহ জেলা। নদীগর্ভে স্কুল তলিয়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে পঠনপাঠন স্থগিত রাখার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে জেলা শিক্ষা দফতর। গঙ্গা এবং ফুলহর নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এবং লাগাতার নদী ভাঙনের জেরে জেলার মোট ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকেয় উঠেছে পঠনপাঠন। কোথাও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে স্কুলে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, আবার কোথাও আস্ত স্কুল ভবনটাই নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শত শত কচিকাঁচা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিশেষ করে রতুয়া-১ এবং মানিকচক ব্লকের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে অত্যন্ত ভয়ংকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনের তীব্রতা এতই বেশি যে অনেক স্কুল ভবন চোখের পলকে জলের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রতুয়ার পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি অংশ গত পরশু রাত থেকে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। গত বছর থেকেই চরম আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা জিতুটোলা প্রাইমারি স্কুলটি এ বছর পুরোপুরি নদীর পেটে চলে গেছে, যার সামান্য দু-একটি দেওয়ালমাত্র এখন অবশিষ্ট রয়েছে। পাশাপাশি, মণিরামটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাত্র ২০-৩০ মিটার দূর দিয়ে তীব্র বেগে নদী প্রবাহিত হচ্ছে এবং জিয়ারামটোলা স্কুলের চারপাশও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সার্বিক এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রতুয়ার এই চারটি স্কুলে অবিলম্বে পঠনপাঠন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু রতুয়াই নয়, মানিকচক ব্লকেও পরিস্থিতি সমানভাবে উদ্বেগজনক। ওই ব্লকের ভাট্টা কার্তিকটোলা, আমিনটোলা, পিয়ারীটোলা, সুকদেবটোলা এবং নিউ লুতিহার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশ নদীদ্বারা প্লাবিত হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ছাত্রছাত্রীরা স্কুল ভবনে পৌঁছাতে পারছে না। দুই ব্লকের মোট ৯টি স্কুলে এই মুহূর্তে মৌখিকভাবে পঠনপাঠন বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সার্কেলগুলির সাব-ইনস্পেকটরদের (SI) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিকল্প কোনো নিরাপদ স্থানে বা অন্য কোনো স্কুলে এই শিশুদের ক্লাস চালানো সম্ভব কি না, তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে।

উল্লেখ্য, রতুয়ার যে সমস্ত স্কুলের শিশুদের এর আগে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, সেই বিকল্প স্কুলগুলির অবস্থাও বর্তমানে খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ভাঙনকবলিত এই স্কুল ভবনগুলিকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই সেচ দফতরের সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা ও যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মলয় মণ্ডল নিজে সোমবার দুর্গত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছেন। গঙ্গার ভয়ংকর ভাঙন যেভাবে একের পর এক এলাকা গ্রাস করছে, তাতে এই স্কুলগুলির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর সংশয় ও প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।