পুজোয় দিঘায় হোটেল বা রেস্তোরাঁয় যাওয়ার আগে সাবধান! বড় বিপদের মুখে পড়বেন না তো?

দুর্গাপুজো আসতে হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। উৎসবের এই আনন্দমুখর মরশুমে ভ্রমণপিপাসু বাঙালির প্রথম পছন্দ দিঘা সহ রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু পুজোয় ঘুরতে যাওয়ার আগে আপনার হোটেল বা রেস্তোরাঁর সুরক্ষা ও খাওয়ার মান নিয়ে কি আপনি নিশ্চিত? সাম্প্রতিক কিছু মর্মান্তিক ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীনভাবে আসরে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। হোটেল ও রেস্তোরাঁর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, লাইসেন্স এবং খাদ্য সুরক্ষা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় প্রশাসনিক বৈঠক ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, যা পর্যটক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
সম্প্রতি তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে পর্যটকদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে রাজ্য সরকার। পর্যটকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিন্দুবিসর্গও ছাড় দিতে নারাজ প্রশাসন। সেই উদ্দেশেই পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর, দমকল বিভাগ এবং পর্যটন দফতরের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (উল্লেখ্য তথ্য সংশোধন সাপেক্ষে) বা সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সুবিধার জন্য ৪০টি সরকারি হোটেল নতুন করে সাজানোর বড় ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুধু কলকাতা বা তারাপীঠ নয়, ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা জুড়ে হোটেল ও নামি-দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ খাবারের দোকানগুলিতেও ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের সরাসরি নেতৃত্বে এই অভিযানে ছিলেন কাঁথির মহকুমা শাসক, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, বিডিও এবং খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। গত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপুজোয় দিঘায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু পর্যটকদের বহুদিনের অভিযোগ ছিল দিঘার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁর পরিবেশ এবং নিম্নমানের খাবার নিয়ে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এই মেগা অভিযান। অভিযানে নামতেই একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ফায়ার এক্সিট, ফায়ার লাইসেন্স ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের ছবি দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয় আধিকারিকদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজোর ঠিক আগে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ যেমন একদিকে পর্যটকদের সুরক্ষা বাড়াবে, তেমনই অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ীদের গাফিলতি রুখতেও বড় ভূমিকা নেবে। পুজোয় পরিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে হোটেল বুকিংয়ের আগেই ফায়ার সেফটি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।