জেন্টলম্যানস গেমে চরম লজ্জা! ভুয়ো চোটের অভিযোগে আইনজীবী নিয়োগ করতে বাধ্য হলেন পাক ক্রিকেটার!

ক্রিকেট মাঠে স্পোর্টসম্যানশিপ ও ভদ্রতার পাঠ সবসময়ই এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে, কিন্তু সেই ভদ্রতার খেলায় যখন অভিনয়ের পর্দাফাঁস হয়, তখন লজ্জার আর সীমা থাকে না। আর এই বিশ্বলজ্জার লজ্জাজনক অধ্যায়টি যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটের সৌজন্যেই। পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং দেশের তারকা খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর অনৈতিক কারবার এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ ক্রিকেটের মর্যাদাই আজ প্রশ্নের মুখে। সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফরের সময় ম্যাচ চলাকালীন চোট পাওয়ার ভান করার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পিসিবি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বাধ্য হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার।
ঘটনার সূত্রপাত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন, যেখানে ফিল্ডিং করার সময় ইমাম-উল-হকের পায়ে কাফ মাসলে গুরুতর চোট লেগেছে বলে দাবি করা হয়। সেই সময় পিসিবি-র তরফে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল যে, চোটের কারণে তাঁকে অন্তত ১০ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। কিন্তু এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থাতেও দিব্যি অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন ইমাম। এই ভণ্ডামি ও লুকোচুরি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডসহ ক্রিকেট বিশ্বের একাধিক সাবেক তারকা ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ইমাম-উল-হক দলের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে স্রেফ চোটের ভান করেছিলেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর একটি বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, এই ঘটনায় ইমাম-উল-হক বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক দিক থেকে এক ভীষণ বিপদের মুখে পড়েছেন। পিসিবি-র গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির সামনে হাজিরা দেওয়ার সময় তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডাতেই তাঁকে আইনি পরামর্শ নিতে হচ্ছে। তদন্ত কমিটি তাঁর সেই বিতর্কিত কাফ মাসলের চোট নিয়ে গভীর তদন্ত করছে, যে অজুহাত দেখিয়ে তিনি সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের উভয় ইনিংসে ব্যাট করা থেকে বিরত ছিলেন। শুধু বর্তমান সফরই নয়, এর আগে ২০২২ সালের ইংল্যান্ড সিরিজ এবং পরবর্তীতে ২০৫ সালের নিউজিল্যান্ড সফরেও ইমামের বুড়ো আঙুলের চোট নিয়ে ফিজিওথেরাপিস্ট ক্লিফ ডিকিন গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি অতীতে তদন্ত কমিটি তাঁকে সমস্ত ফর্ম্যাটের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার জোরালো সুপারিশ পর্যন্ত করেছিল।
এদিকে মাঠের পারফরম্যান্সের বেহাল দশা এবং দলের অন্দরের এই দুর্নীতিগ্রস্ত আবহের জেরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দুটি টেস্টেই শোচনীয় পরাজয়ের লজ্জা হজম করতে হয়েছে পাকিস্তান দলকে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচের আগেই নড়েচড়ে বসেছে পিসিবি। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে স্কোয়াড থেকে একসঙ্গে সাতজন খেলোয়াড়কে তড়িঘড়ি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এমনকি খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দলের দুই কোচ—সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকেও মাঝপথেই পাকিস্তানের টিকিট ধরাতে বাধ্য করা হয়েছে। পিসিবি-র এই কঠোর পদক্ষেপে গোটা পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে চরম থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।