উত্তরপ্রদেশের ভোটের আগে বিজেপির অন্দরেই বড় ঝড়! কেন্দ্রীয় ‘সবর্ণ কমিশন’ গঠনের জোরালো দাবিতে শোরগোল

আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পারদ চড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনের এখনও বেশ কিছুদিন বাকি থাকলেও রাজধানী দিল্লিতে এর রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। এরই মধ্যে কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সাংসদ কেন্দ্রীয় স্তরে একটি পৃথক ‘সবর্ণ কমিশন’ গঠনের জোরালো দাবি তুলেছেন। এই চাঞ্চল্যকর দাবিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সবর্ণ বা উচ্চবর্ণের সাধারণ মানুষের জন্য একটি পৃথক জাতীয় কমিশন গঠনের দাবিতে বিজেপির কিছু সাংসদ একাধিক সিনিয়র কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। যদিও এই প্রস্তাবের নেপথ্যে থাকা নির্দিষ্ট সাংসদদের নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি রাজনৈতিক কৌশল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিভিন্ন নীতিগত নির্দেশিকা ও প্রশাসনিক কারণে ক্ষুব্ধ উচ্চবর্ণের ভোটারদের অসন্তোষ প্রশমিত করতেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বিজেপি সাংসদদের প্রধান যুক্তি হলো, দেশের তফশিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য যখন সাংবিধানিক ও পৃথক কমিশন রয়েছে, তখন কেন কেন্দ্রীয় স্তরে সবর্ণদের জন্য কোনো কমিশন থাকবে না? অতি দ্রুত এই কমিশন গঠনের পক্ষে সওয়াল করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, তাদের আরও দাবি যে, এই কমিশন গঠিত হলে সমাজের উচ্চবর্ণের মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। এর মাধ্যমে সংরক্ষণ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকা উচ্চবর্ণের অভাব-অভিযোগ ও বঞ্চনা দূর করতেই কেন্দ্রীয় সবর্ণ কমিশন গঠনের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আরও যুক্তি, যদি বিহারের মতো রাজ্যে সফলভাবে সবর্ণ কমিশন গঠিত হতে পারে, তবে সমগ্র দেশজুড়ে কেন তা কার্যকর করা যাবে না? নিজেদের এই জোরালো দাবি পেশ করতে ইতিমধ্যেই বিজেপির একটি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দলের প্রাক্তন সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গেও বিশেষ বৈঠক করেছেন। এর আগে অল ইন্ডিয়া ক্ষত্রিয় কল্যাণ পরিষদও দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে একই রকম একটি পৃথক কমিশন গঠনের আর্জি জানিয়েছিল। সবমিলিয়ে, ভোটের মুখে গেরুয়া শিবিরের অন্দরের এই চাপ তৈরি রাজনৈতিক সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার।