দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা! ডিসেম্বরেই কি প্রত্যাবর্তন? তারেক রহমানকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে ফিরতে চান সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের এক প্রথমসারির গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইচ্ছের কথা স্পষ্ট ভাষায় জানান। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারের একাধিক নীতির তীব্র সমালোচনাও করেছেন তিনি। গত ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে ভিডিও কলের মাধ্যমে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সের সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রেস কনফারেন্স করেছি। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এর প্রভাব কেন পড়বে? ২০০৭ সালে তারেক রহমান যখন যুক্তরাজ্যে চলে গিয়েছিলেন, তখন স্ট্যাম্প পেপারে সই করে লিখে দিয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি আর কখনও রাজনীতি করবেন না। কিন্তু তিনি তারপরেও রাজনীতি করছেন, সাংবাদিক বৈঠক করছেন। আমি কি কখনও যুক্তরাজ্যের সরকারকে বলেছি যে একজন অপরাধীকে সেই সাংবাদিক বৈঠকগুলো করতে দেওয়া যাবে না?” বর্তমান প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে তাঁর রাজনৈতিক অধিকার ও কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার এই প্রয়াস কেন চালানো হচ্ছে।
নিজ দেশে ফেরা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, “আমি আমার দেশে ফিরতে চাই। আমি জানি না উনি কেন বারবার তাতে বাধা দিচ্ছেন। ওরা প্রত্যার্পণ চুক্তির কথা বলছে, কিন্তু আমি তো আমার নিজের দেশেই ফিরতে চাই। আমি কি সারাজীবন এভাবেই দেশের বাইরে exile-এ কাটিয়ে দেব?” তিনি নিশ্চিত করেন যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরতে চান। তবে তাঁর ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং স্থান সঠিক সময়ে তিনি নিজেই ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এই সাক্ষাৎকারে বর্তমান পরিস্থিতির জেরে দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের কর্মীদের উপর প্রতিনিয়ত নৃশংস আক্রমণ চলছে। তাঁর কথায়, “দলীয় কর্মীদের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকেই শুরু হয়েছিল এবং এখনও তা সমানভাবে চলছে। এমন একটি দিনও কাটে না যেদিন বাংলাদেশে মানুষ খুন হন না। সম্প্রতি রংপুরে একটি পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, বগুড়াতেও একজনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত আমার দলের কোনো না কোনো কর্মীকে খুন করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে কিংবা বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমনকি বাড়িতে ঢুকে নারী ও পুরুষদের উপর নির্বিচারে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে আমার প্রত্যার্পণ কীভাবে একটি শর্ত বা ইস্যু হতে পারে, তা আমার বোধগম্য নয়।”
নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ভয় নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন হাসিনা। অতীতেও তাঁর উপর একাধিকবার প্রাণঘাতী আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের কাপুরুষোচিত আক্রমণ আমাকে কখনোই থামাতে পারবে না। কোনো ফাঁকা হুমকি বা ভয় দেখিয়ে আমাকে আটকানো যাবে না। আমি আমার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে সামান্যতম চিন্তিতও নই। ক্ষমতার মোহে নয়, সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং দেশের টানেই আমি যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে ফিরে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।