যে খাবার খাচ্ছেন তা কি সত্যিই বিষমুক্ত? দেশের ২৩টি রাজ্যের খাবারে মিলল বিপদের হদিশ!

দেশজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার চিত্র নিয়ে কেন্দ্র সরকারের একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কৃষি মন্ত্রকের নজরদারি কর্মসূচি (MPRNL)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ২৩টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাজার থেকে সংগৃহীত হাজার হাজার খাদ্য নমুনার মধ্যে বহুটিতেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ মিলেছে। শাকসবজি, ফল, মশলা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহারের খাবারে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিন বছরে মোট ৭০,৬৫২টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,২২৩টি নমুনায় ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (FSSAI) দ্বারা নির্ধারিত নিরাপদ সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে কীটনাশকের মাত্রা। রাজ্যগুলির মধ্যে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কর্ণাটক। সেখানে ৯,১৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৩৪টিতে অতিরিক্ত কীটনাশক মিলেছে। এরপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র (২৬০টি), গুজরাত (১৭০টি) এবং হরিয়ানা (১৫২টি)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে অতিরিক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি মানব শরীরে দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্গানোফসফেট এবং হরমোন সিস্টেমকে প্রভাবিত করা এই রাসায়নিকগুলির সংস্পর্শে ক্যানসার, টিউমার, হরমোনজনিত জটিলতা এবং বিকাশগত সমস্যার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ফল ও শাকসবজির মতো সরাসরি ভক্ষণযোগ্য ফসলে এই রাসায়নিকের ব্যবহার বেশি থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রিপোর্টে আরও একটি বিতর্কিত বিষয় সামনে এসেছে। তা হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং জাপানের মতো উন্নত দেশগুলিতে যে সমস্ত কীটনাশক মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে নিষিদ্ধ, সেগুলি এখনও কীভাবে ভারতে অবাধে উৎপাদিত ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় স্তরে খাদ্য পরীক্ষার পরিকাঠামোর ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিপোর্টে তিনটি প্রধান পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমত, জেলা ও ব্লক স্তরে খাদ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সরকারি ল্যাবরেটরির জাল বিস্তার করা। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য দেশে নিষিদ্ধ কীটনাশক অবিলম্বে ভারতেও নিষিদ্ধ করা। এবং তৃতীয়ত, FSSAI-এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কীটনাশক শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কহীন স্বাধীন বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।