শিশুর টনসিল অপারেশন করিয়েছেন? অজান্তেই কোন ভয়ংকর বিপদের মুখে ঠেলছেন না তো? জানুন আসল সত্যি!

শিশুর ঘনঘন সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা বা গলার ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকরা অনেক সময়েই টনসিল অপারেশন বা টনসিলেক্টমি (Tonsillectomy) করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বাবা-মায়েরা সাধারণত মনে করেন যে একবার এই অস্ত্রোপচার হয়ে গেলেই শিশু চিরতরে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু সার্জারির পরে ছোটদের শরীরে কী ধরনের শারীরিক পরিবর্তন ও জটিলতা দেখা দিতে পারে, সে বিষয়ে অধিকাংশ অভিভাবকই সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকেন। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, টনসিল আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রথম সারির প্রহરી বা ইমিউন সিস্টেমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে গলা থেকে হঠাৎ এই অংশটি বাদ দেওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও তাৎক্ষণিক বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে, যা শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।
অস্ত্রোপচারের ঠিক পরবর্তী সময়ে যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তা হলো তীব্র রক্তপাত। টনসিল অপসারণের পর মুখের ভেতর বা গলার ক্ষতস্থান থেকে অনেক সময় হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে, যা ছোটদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়াও, সার্জারির পর প্রথম কয়েকদিন শিশুরা মুখের ভেতরে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে কোনো কিছু গিলতে বা খেতে চায় না। এর ফলে শরীরে দ্রুত জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয় এবং পুষ্টির অভাবে শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। গলা ফুলে যাওয়ার কারণে খাবার তো বটেই, অনেক সময় নিজের মুখের লালা গিলতেও অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় কোমলমতি শিশুদের।
শল্য চিকিৎসার পরবর্তীতে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মারাত্মক অবনতি। যেহেতু টনসিল শরীরকে বাইরের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে, তাই এটি বাদ পড়ার পর শিশু ঘনঘন ঠান্ডা লাগা, সাইনাস ইনফেকশন, ব্রংকাইটিস বা ফুসফুসের নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হতে শুরু করে। অনেক সময় দেখা যায়, টনসিল অপারেশনের পর শিশুর গলার স্বর বা কণ্ঠস্বরে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে কিংবা কথা বলার ধরনেও বড়সড় সমস্যা তৈরি হয়। তাই আপনার সন্তানকে এই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের কথা ভাবার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ নাক, কান ও গলা (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং অস্ত্রোপচার পরবর্তী সমস্ত জটিলতা ও পরিচর্যা সম্পর্কে আগে থেকেই পুরোপুরি ওয়াকিবহাল থাকুন।