চাকরি হারানো হাজার হাজার প্রার্থীর মুখে হাসি ফোটাল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট! বেআইনি ঘোষণা সরকারের সিদ্ধান্তকে

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় कथित अनियमितতা ও ব্যাপক বিক্ষোভের আবহে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক ঐতিহাসিক রায় দিল ঝাড়খণ্ড উচ্চ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি দীপক রোশনের একক বেঞ্চ ২০২৪ সালের ঝাড়খণ্ড কর্মচারী चयन आयोग (JSSC-CGL) পরীক্ষা বাতিল করার রাজ্য সরকারের বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে সরকারের এই হঠাৎ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ‘অন্যায় এবং অনুচিত’ ছিল। এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজ্য সরকার জেএসএসসি-সিজিএল ২০২৪ পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার সফল চাকরিপ্রার্থী রাতারাতি চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বড়সড় দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্যদিকে, চাকরি হারানো প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে পাল্টা সওয়াল করেন যে, কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে তাঁদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে ঝাড়খণ্ড সরকার ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত প্রায় ২২টি নিয়োগ পরীক্ষা (যার মধ্যে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেএসএসসি-সিজিএল ২০২৩ পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত ছিল) বাতিল করার ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি, পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে অন্যান্য পরীক্ষাগুলির তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

তবে সফল প্রার্থীদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হলে ঝাড়খণ্ড উচ্চ আদালত ইতিপূর্বেই কিছু পরীক্ষার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। শুক্রবারের এই চূড়ান্ত রায়ে আদালত রাজ্য সরকারের সেই একরোখা সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও অন্যায্য বলে ঘোষণা করল। বর্তমানে ঝাড়খণ্ড সিআইডি-র একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ও দুর্নীতির অভিযোগগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। আদালতের এই যুগান্তকারী নির্দেশের ফলে চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় নতুন করে বুক বাঁধছেন হাজার হাজার সফল পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার।