“চাল-চিনির চড়া দাম আর ওজনে কারচুপি!”-কড়া অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু

বাজার থেকে কি আমরা খাবার কিনছি নাকি স্লো পয়জন খাচ্ছি? শাকসবজি তাজা দেখাতে এবং মিষ্টির আকর্ষণ বাড়াতে দেদার মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল! মঙ্গলবার উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে ঠিক এই ভাষাতেই বিক্রেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম এবং ওজনে কারচুপির মতো গুরুতর জালিয়াতি রুখতে রাজ্য সরকার যে এবার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হঠাৎ করে শাকসবজি ও চিনির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে। তবে চালের উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও বাজারে দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি সাফ জানান, সরকার ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে এবং খুব শীঘ্রই এর সুফল মানুষ দেখতে পাবেন।
তবে এদিন তাঁর বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল খাবারে ভেজালের বিষয়টি। নামী-দামী হোটেল, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বড় বড় মিষ্টির দোকানে দেদার ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ‘ব্যবসা করুন পরিচ্ছন্নভাবে, মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার অধিকার কারও নেই।’ সবজিকে সতেজ ও আকর্ষণীয় দেখাতে যে বিষাক্ত রং ব্যবহার করা হচ্ছে, তাকে ‘বিষ খাওয়ানোর সমান’ বলে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। এই অবৈধ কারবারের নেপথ্যে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর সঙ্গে পুলিশ ও ফুড ইনস্পেক্টরদের একাংশও জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
খাবারের ভেজাল ছাড়াও ওজনে কারচুপি এবং ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামে প্রতারণার মতো গুরুতর অপরাধ নিয়েও সোচ্চার হন মুখ্যমন্ত্রী। বাজার থেকে আনাজ বা মাছ কেনার সময় আধুনিক ইলেকট্রনিক্স মাপার মেশিনেও যে কারচুপি চলছে, তা নজরে আসতেই কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিজ্ঞাপন দিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধেও আইনি লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তিনি।