সদস্যপদ খারিজের নোটিসে বিরাট মোড়! সময় চেয়ে আইনজীবীদের দ্বারস্থ দলত্যাগী ২০ সাংসদ।

গত ২৫ অগাস্ট স্পিকারের দফতরকে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, তৃণমূল ত্যাগ করে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরেই ওই ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠায় স্পিকারের দফতর। নিয়ম অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার জন্য মাত্র ৭ দিন সময় দেওয়া হলেও, এনসিপিআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নোটিসের জবাব দিতে আরও কিছুটা অতিরিক্ত সময় নিতে চলেছেন অভিযুক্ত সাংসদরা। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করতে এই মুহূর্তে বিশিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলী ঘোষ দস্তিদারদের মতো হেভিওয়েট নেতারা।
সূত্রের আরও খবর, স্পিকারের নোটিস হাতে পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই দলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদরা। সেখান থেকে তাঁদের যথাযথ আশ্বাসের পাশাপাশি আইনি সহায়তার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মূলত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দলত্যাগ বিরোধী আইনকে হাতিয়ার করে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যাওয়া ওই ২০ জন সাংসদের প্রত্যেকেরই সাংসদপদ খারিজ করার দাবি জানিয়ে গত ১৯ জুন লোকসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ এই ২০ জন সাংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস জারি করে। অভিষেকের মূল আবেদনে লোকসভার স্পিকারকে অযোগ্যতা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া অবিলম্বে শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। এরপরেই নড়েচড়ে বসে স্পিকারের দফতর। সাত দিনের ডেডলাইনের মধ্যে নিজেদের জোরালো বক্তব্য পেশ করার চাপ বাড়লেও, আইনজীবীদের পরামর্শেই অতিরিক্ত সময় চেয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলত্যাগীরা। বলাই বাহুল্য, আগামী দিনে এই মামলার রায় জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।