সন্ত্রাসের ‘ইকোসিস্টেম’ গুঁড়িয়ে দিতে মোদীর হুঙ্কার! এসসিও বৈঠকে দ্বৈত নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

বিশ্বমঞ্চে ফের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশকেকে আয়োজিত ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি গোটা মানবতার জন্য এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এর বিরুদ্ধে লড়াইকে নিছক ‘অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন’ মানসিকতার মধ্যে সীমিত না রেখে, এর শিকড় বা সম্পূর্ণ ‘ইকোসিস্টেম’ সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, জঙ্গিদের অর্থ জোগান, নিয়োগ প্রক্রিয়া, কট্টরপন্থী তৈরি করা এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল—এই সমস্ত দিক একসাথে ধ্বংস করতে হবে। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে তাদের নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আড়াল করে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে মোদী ঘোষণা করেন যে সন্ত্রাসবাদ কখনও কারও জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট’ বা কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না। এই গুরুতর বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও ধরনের দ্বিচারিতা বা দ্বিমুখী নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এসসিও-র ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রাধিকারের প্রথম স্তম্ভ হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, যা পরবর্তীতে কানেক্টিভিটি এবং সুযোগের পথ প্রশস্ত করে। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ইউরেশিয়ার স্বপ্ন আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ভারত সবসময়ই আফগান জনগণের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট প্রসঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা তুলে ধরেন মোদী। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি অঞ্চলের সংঘাত কেবল সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং সাপ্লাই চেইনের ওপর। যার ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা সহ্য করতে হয় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে। তাই বর্তমান বিশ্বের যেকোনো উত্তেজনার সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভব নয়, একমাত্র আলোচনা ও কূটনীতিই এর একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাদক পাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন যে, এই সংস্থার সাফল্যের আসল মাপকাঠি নির্ভর করবে তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর। কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরানসহ এসসিও-র ১০টি সদস্য রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন সহযোগী দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত এই সংস্থার কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।