কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট সুখবর! অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জয়পুর বৈঠকে বড় আপডেট

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (CPC) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের রাজস্থান সফর শুরু করেছে। গত ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জয়পুরে কমিশনের উচ্চপর্যায়ের সরকারি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুধুমাত্র তারাই এই বৈঠকে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন, যারা নির্দিষ্ট সময়ের অর্থাৎ গত ১৮ আগস্টের মধ্যে সাক্ষাতের জন্য আগে থেকেই আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে কমিশন পরামর্শ গ্রহণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন, প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী, পেনশনভোগী সংগঠন, ফেডারেশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ও রেলওয়ে কর্মীসহ দেশের বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলির সঙ্গে এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলি কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ গঠনে অত্যন্ত নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সুযোগ্য নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের চেয়ারপারসনের পাশাপাশি প্যানেলের অন্যান্য সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন (প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা) এবং কমিশনের বিশিষ্ট সদস্য অধ্যাপক পুলক ঘোষ (অর্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য)। বিগত বছরের শেষের দিকেই এই গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের কার্যপরিধি বা ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ (ToR) প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। যদিও এই নির্দিষ্ট সফরের জন্য কমিশন আলাদাভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি প্রকাশ করেনি, তবুও বিভিন্ন বিশিষ্ট কর্মচারী ইউনিয়নগুলির জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লিখিত বেশ কিছু জ্বলন্ত ও নিয়মিত দাবি নিয়ে বৈঠকে তীব্র আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মূলত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের পুনর্বিবেচনা, মূল বেতন কাঠামোর আমূল পরিবর্তন, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জন্য মহারᱷঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সংশোধন, বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং পরিবহন ভাতার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাতাগুলির পুনর্বিন্যাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, অবসরকালীন নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পেনশন সংস্কার, কর্মচারী কল্যাণ এবং পারিশ্রমিকের প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নয়নের পদক্ষেপের মতো বিষয়গুলিও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং সার্বিক পেনশন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের লক্ষ্যে গত মার্চ মাস থেকেই কমিশন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনেও তাদের ব্যাপক সফরসূচি রয়েছে। অষ্টম সিপিসি আগামী ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর চেন্নাই সফর করবে এবং ৯ সেপ্টেম্বর পুদুচেরি পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এছাড়া আগামী ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড় এবং পরবর্তীতে ৭ ও ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরু সফর করবে কমিশন। অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদনকারীরা পরবর্তীতেও সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া রেল মন্ত্রকের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, কর্মীদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে কমিশন মুম্বাইয়ের সেন্ট্রাল রেলওয়ে জোন পরিদর্শনের পরিকল্পনাও করছে। কমিশনের কার্যপরিধির সময়সীমা অনুযায়ী, প্যানেল গঠনের ১৮ মাস পর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিল মাসের মধ্যেই এর প্রথম ঘোষণাটি চলে আসতে পারে। এই প্যানেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ১ কোটিরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।