ওড়িশার বুকেই লুকিয়ে থাইল্যান্ড! পাহাড়, জঙ্গল আর ফিরোজা জলের এই অফবিট ডেস্টিনেশন চেনেন?

বর্ষাকাল মানেই প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে। আর এই সময়ে যদি এমন কোনও জাদুকরী জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা যায়, যেখানে পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ জলধারা একসঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, তবে ভ্রমণের আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়। ওড়িশার এমনই এক অপূর্ব এবং সম্পূর্ণ অফবিট ডেস্টিনেশন হলো ‘রানিচুয়ান’। বারগড় শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে, বিখ্যাত ডিব্রুগড় অভয়ারণ্যের একেবারে কোলঘেঁষে কুসমুদা গ্রামে লুকিয়ে রয়েছে এই প্রাকৃতিক বিস্ময়। শহরের কোলাহল ও যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে বহু দূরে, এখানকার চারপাশ জুড়ে রয়েছে শুধু শাল ও সেগুনের সুগভীর জঙ্গল এবং বিভিন্ন প্রজাতির নাম না জানা পাখির কলকাকলি।
পর্যটকদের কাছে এই জায়গাটি ‘মিনি থাইল্যান্ড’ বা ‘ওড়িশার থাইল্যান্ড’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক আকর্ষণীয় কারণ। উঁচু পাহাড়ের পাথুরে খাঁজ বেয়ে নেমে আসা মনোমুগ্ধকর নীল-সবুজ জলের ধারা এবং পাথুরে মালভূমির ওপর দিয়ে বয়ে চলা এই জলধারা যখন ছোট ছোট প্রাকৃতিক পুলে আছড়ে পড়ে, তখন এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হয়। এখানকার জলের স্বচ্ছতা এতটাই নিখুঁত যে তলদেশের নুড়ি-পাথর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। চারপাশের সবুজ উপত্যকা আর এই ফিরোজা রঙের জলের অনন্য কম্বিনেশন দেখলে যে কারও মনে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ক্রাবি বা ফি ফি আইল্যান্ডের কথা মনে পড়ে যাবে। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে তাই এটি বর্তমানে এক নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
এখানে এসে পর্যটকরা যেমন অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে সময় কাটাতে পারেন, তেমনই ফটোগ্রাফি ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি একেবারে স্বর্গরাজ্য। বিশেষ করে বর্ষার মরশুমে জলের স্রোত বাড়লে ড্রোন শটে এই জায়গার সৌন্দর্য অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। এছাড়াও, রানিচুয়ান ভ্রমণের সঙ্গে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন সংলগ্ন ডিব্রুগড় অভয়ারণ্য, যেখানে হরিণ, বাইসন, ময়ূর এবং বিভিন্ন পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। পাশেই রয়েছে হীরাকুদ ড্যামের ব্যাকওয়াটার। স্থানীয়দের কাছে এটি দারুণ একটি পিকনিক ও ট্রেকিং স্পট। জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত অর্থাৎ বর্ষা ও শীতের শুরুর সময়টি এখানে ভ্রমণের জন্য সেরা। কলকাতা থেকে ট্রেনে সম্বলপুর বা বারগড় রোড পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে কুসমুদা গ্রামে পৌঁছানো যায়। থাকা ও খাওয়ার জন্য বারগড় বা সম্বলপুরে সুলভ মূল্যের হোটেল পেয়ে যাবেন। তবে পাথুরিজমি বর্ষায় পিচ্ছিল থাকে বলে ভালো ট্রেকিং জুতো পরা এবং স্থানীয় গাইডের সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।