গ্যাসের দামে বড় ধাক্কা! ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কি মহার্ঘ হল বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার?

প্রতি মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ তারিখে দেশজুড়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার পাশাপাশি রান্নার গ্যাস ও বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দামে একাধিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই নিয়ম মেনেই ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ কেজি বিশিষ্ট বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে। সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৯.৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরগুলিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের নতুন হার কার্যকর হয়েছে।
সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে মেট্রোপলিটন শহরগুলিতে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ২,৭৪৭.৫০ টাকা। অন্যদিকে, তিলোত্তমা শহর কলকাতায় এই সিলিন্ডারের নতুন দাম পৌঁছে গিয়েছে ২,৯৮২ টাকায়। এছাড়া মুম্বাইতে বাণিজ্যিক গ্যাসের নতুন দাম হয়েছে ২,৭০১ টাকা এবং চেন্নাইতে এই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৯১৬.৫০ টাকা। এর আগে চলতি বছরের জুলাই ও অগাস্ট—এই টানা দুই মাস বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, গত অগাস্ট মাসে দিল্লিতে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৯২ টাকা কমে ২,৭৩৮ টাকায় নেমে এসেছিল এবং কলকাতায় দাম কমে হয়েছিল ২,৮৭২.৫০ টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই সেই স্বস্তিতে কিছুটা হলেও ভাটা পড়ল।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ২০২৬ সালের এই আট মাসে বাণিজ্যিক এলপিজির দামে লাগাতার ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মোট ছ’বার বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাত্র দু’বার দাম কমানো হয়েছিল। বছরের প্রথম দিকে যেমন জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দফায় দফায় গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তেমনই জুলাই ও অগাস্ট মাসে কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল। বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার মূলত দেশের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, ধাবা, ক্যাফে, টি স্টল এবং বড় বড় কমার্শিয়াল ক্যান্টিনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই ধরনের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়লে রেস্তোরাঁ বা খাদ্য ব্যবসার পরিচালনা খরচ সরাসরি অনেকটাই বেড়ে যায়। আর এর ফলেই হোটেল ও রেস্তোরাঁর খাবারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের পকেটেও বাড়তি মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে পারে।