২০২৭-এর যুদ্ধ জয় করতে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক! যোগীর বুথ মন্ত্র আর স্মৃতির ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিতে ঘুম উড়ল বিরোধীদের

২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি ঝালিয়ে নিতে মাঠে নেমে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। সোমবার লখনউতে আয়োজিত এক বিশেষ ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ কর্মশালায় দলের কর্মীদের শুধু সরকারের কাজের ওপর ভরসা করে বসে না থাকার কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অন্যদিকে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধীদের ডিজিটাল প্রচার ও বয়ানকে কড়া হাতে মোকাবিলা করার জন্য এক সুদূরপ্রসারী ডিজিটাল কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরেছেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কড়া বার্তা: কর্মশালায় উপস্থিত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলেন, শুধু সরকারের কাজের সাফল্য নিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকলে চলবে না, যাঁরা এতদিন অসচেতন ছিলেন তাঁদের অবিলম্বে জেগে উঠতে হবে। বিরোধী দলগুলি বর্তমান প্রজন্মের ভোটার অর্থাৎ জেন-জি (Gen-Z), জেন আলফা এবং রাম মন্দিরের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে জনমানসে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই অপপ্রচার রুখতে বিজেপি কর্মীদের সরকারের জনমুখী সাফল্যের বার্তা নিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে যোগী জানান, ২০১৭ সালে যেখানে উত্তর প্রদেশে মাত্র ১২টি নিবন্ধিত স্টার্টআপ ছিল, আজ তা বেড়ে ২৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি বিমান সংযোগের ক্ষেত্রেও লখনউ ও বারাণসীর পাশাপাশি এখন রাজ্যে ১৭টি অভ্যন্তরীণ এবং ৫টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে বা চালুর চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং দেশের প্রথম আরআরটিএস (RRTS) প্রকল্পের মতো মেগা উন্নয়নমূলক কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি এই সাফল্য প্রতিটি বুথ স্তরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। এপ্রসঙ্গে বীর সাভারকরের একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারের সাফল্যের জায়গায় কোনো ঘাটতি নেই, তবে সংগঠনের সক্রিয়তায় কোনো রকম শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।

স্মৃতি ইরানির ডিজিটাল যুদ্ধের কৌশল: শুধু সনাতন প্রচার নয়, বিরোধীদের ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা এবং মিথ্যা বয়ানকে ভোঁতা করতে এক অভিনব ডিজিটাল রণকৌশল ঘোষণা করেছেন স্মৃতি ইরানি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, কেবল রাজনৈতিক ভাষণ দিয়ে আজকের ডিজিটাল যুগে বিরোধীদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য সরকারি প্রকল্প থেকে সরাসরি উপকৃত হওয়া সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের গল্প ও অভিজ্ঞতাকে সামনে আনতে হবে।

এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের প্রায় ২৯,০০০ শক্তি কেন্দ্রের প্রতিটিতে অন্তত ১০টি করে সফলতার গল্প চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে থাকবে পিএম আবাস যোজনার ঘর প্রাপক, ওডিওপি (ODOP)-র কারিগর, মুদ্রা যোজনার উদ্যোক্তা এবং ‘অপারেশন কায়াকল্প’-এর মাধ্যমে উপকৃত স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। এই সুবিধাভোগীদের প্রায় এক মিনিট দীর্ঘ আসল ভিডিও তৈরি করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দল। অর্থাৎ নেতার ভাষণের পরিবর্তে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখেই সরকারি প্রগতির কথা প্রচার করবে বিজেপি। সেই সঙ্গে ১৩টি কেন্দ্রীয় প্রচার অভিযানের সঠিক রূপায়ণ এবং বুথ স্তর পর্যন্ত দলের ভিত আরও মজবুত করতে সরকার ও সংগঠনের যৌথ সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha