পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মাঝেই বিরাট কূটনৈতিক চাল মোদীর! ব্রিকস সম্মেলনে ইরানকে সসম্মানে আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি হলেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচিও। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।
বৈঠকে ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেন যে, সংঘাতে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেই ভারতের সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর জন্য ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ওপর হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। পেজেশকিয়ানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমি যতদূর বুঝেছি, আপনি একজন শান্তিকামী মানুষ।” যুদ্ধ বা রক্তপাত এড়িয়ে সম্পূর্ণভাবে কূটনৈতিক আলোচনা এবং সংলাপের মাধ্যমেই যে সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, সেই বিষয়ে ভারতের সুপ্রাচীন অবস্থানের কথা পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করেন মোদী। সেই সঙ্গে শান্তি ফেরানোর প্রতিটি পদক্ষেপে ভারত যে সবসময় ইরানের পাশে থাকবে, সেই প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দুই নেতার এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কৌশলগত স্থান চাবাহার বন্দর এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল ও সুরক্ষা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানান, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব সর্বদা অটুট থাকবে। পাশাপাশি, সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ বা সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের হামলা হওয়া উচিত নয় এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যকে সর্বদাই সুরক্ষিত রাখতে হবে বলে তিনি জোর দেন। শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করাই নয়, আগামী দিনে এসসিও (SCO) এবং ব্রিকসের (BRICS) মতো গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চেও ইরানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি খুব শীঘ্রই ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্টকে সসম্মনে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, বিশকেক সম্মেলনে মোদীর ব্যস্ত কর্মসূচি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরান থেকে ভারতীয় ছাত্রদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করার জন্য পাশিনিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদী। অন্যদিকে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশকেকে পৌঁছালেও মোদীর সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কোনো পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি নেই। তবে আজ সন্ধ্যায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকের কথা রয়েছে। উজবেকিস্তান সফর সেরে গতকাল সন্ধ্যায় বিশকেকে পৌঁছানোর পর থেকেই বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।