‘এত মাংস খাচ্ছিস কেন!’ প্লেট থেকে বেশি পিস তুলে নেওয়াতেই চরম কাণ্ড, বন্ধুকে খুন করে হাসপাতালেও নাটক অভিযুক্তের!

তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বচসা কীভাবে চরম রূপ নিতে পারে, কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার এই ঘটনা তার এক মর্মান্তিক প্রমাণ। মুরগির মাংসের পিস বেশি খাওয়াকে কেন্দ্র করে পার্টি চলাকালীন দুই বন্ধুর মধ্যে চরম হাতাহাতি শুরু হয়। আর তার জেরে বন্ধুকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল অন্য এক যুবকের বিরুদ্ধে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল পার্টিতে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্ণাটকের মুদালাগি তালুকের একটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃত যুবকের নাম সীতারাম, যিনি মূলত উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটের বাসিন্দা ছিলেন। আর অভিযুক্তের নাম অরুণ কুমার। দুজনেই স্থানীয় একটি স্টিল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং একসঙ্গে পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন।
পার্টি চলাকালীন হঠাৎই অরুণ লক্ষ করেন যে, সীতারাম তাঁকে না জানিয়েই প্লেট থেকে একটার পর এক মাংসের টুকরো বেশি খাচ্ছেন। এই সামান্য বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই দুজনের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই অধরা হয়ে পড়ে যে, রাগের বশে ধারালো ছুরি দিয়ে সীতারামকে উপর্যুপরি কোপাতে শুরু করেন অরুণ।
পুলিশের জালে অভিযুক্তের নাটক ফাঁস
ঘটনার পর অপরাধ ঢাকতে এক অদ্ভুত ফন্দি আঁটেন অভিযুক্ত অরুণ নিজেই। রক্তাক্ত অবস্থায় সীতারামকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন যে, ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু এবং পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। এরপরই অরুণকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দীর্ঘ জেরার মুখে বন্ধুকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।