রেলে প্ল্যাটফর্মে রাত কাটানো, গাছের তলায় অপেক্ষা! অদম্য লড়াইয়ে কীভাবে টিম ইন্ডিয়ায় দুর্গাপুরের অভিপ্রায়?

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন ওডিআই এবং মাল্টি-ডে সিরিজের জন্য ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় চর্চায় রাহুল দ্রাবিড়-পুত্র অন্বয় এবং বীরেন্দ্র সেহওয়াগ-পুত্র আর্যবীর। এই দুই তারকাপুত্রের মেগা কলের ভিড়ে বাংলার ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণামূলক অর্জন অনেকটা আড়ালেই থেকে গেল। বাংলার শিল্পশহর দুর্গাপুরের সুকান্ত পল্লীর এক সাধারণ পরিবারের সন্তান অভিপ্রায় বিশ্বাস এবার ডাক পেয়েছেন জাতীয় যুব দলের স্কোয়াডে। আর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক রূপকথার মতো কঠিন সংগ্রামের ইতিহাস।
মায়ের অদম্য জেদ ও প্ল্যাটফর্মে রাত কাটানোর দিনগুলি
দুর্গাপুরের শ্রমিক নগর ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকে ক্রিকেট দুনিয়ায় পথচলা শুরু অভিপ্রায়ের। মাত্র ছয় বছর বয়সে ছেলের হাতে ব্যাট তুলে দিয়েছিলেন মা অলোকা বিশ্বাস। কিন্তু সেই পথচলা এত সহজ ছিল না। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের scorching রোদে ছেলের প্র্যাকটিসের সময় গাছের তলায় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা থেকে শুরু করে, মাঝরাতে ছেলেকে নিয়ে রেল প্ল্যাটফর্মে রাত কাটানো—সবটাই একা হাতে সামলেছেন মা। ভোরের ট্রেন ধরে কলকাতা ময়দানে ছেলেকে সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার সেই লড়াই আজ সফল।
ঋদ্ধিমান সাহা ও গিলক্রিস্টের ছায়া ২২ গজে
মিডল-অর্ডারে ব্যাট করতে ভালোবাসেন উদীয়মান এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট এবং বাংলার গর্ব ঋদ্ধিমান সাহাকে আদর্শ করে এগিয়ে চলেছেন তিনি। ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন নিয়ে ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুতে উইকেটরক্ষার বিশেষ প্রশিক্ষণ সেরে দুর্গাপুরের বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। সৌরাশিস লাহিড়ীর ফোন থেকেই প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবর পান এই তরুণ।
সার্থক হলো দাদু ও পরিবারের আত্মত্যাগ
পেশায় চিকিৎসক বাবা পঙ্কজ কুমার বিশ্বাস এবং গৃহবধূ মা অলোকা দেবীর সন্তান অভিপ্রায় পড়াশোনার পাশাপাশি সমানতালে চালিয়ে গেছেন ক্রিকেট চর্চা। দাদু অসিত কুমার বিশ্বাসের হাত ধরে শুরু হওয়া এই ক্রিকেটের হাতেখড়ি আজ পৌঁছে গেছে জাতীয় যুব দলের আঙিনায়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ঋদ্ধিমান সাহার পর দামোদর নদ তীরবর্তী এই মাটি থেকে আরও এক বাঙালি ক্রিকেটারের টিম ইন্ডিয়াতে পৌঁছানোর স্বপ্ন এখন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রাজকোট ও আমেদাবাদের মাঠে নামার অপেক্ষায় এখন গোটা দুর্গাপুর তথা বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা।