জোড়াফুল প্রতীক ও কোটি কোটি টাকার তহবিল কার? ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল মমতার, কমিশনকে কড়া চিঠি!

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জোড়াফুল শিবির কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত। দলের পরিচিত জোড়াফুল প্রতীক এবং বিপুল পরিমাণ তহবিলের অধিকার কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি তুঙ্গে। চলতি অগস্ট মাসের মধ্যেই এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত মীমাংসা করার কথা ছিল নির্বাচন কমিশনের। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদ পার হয়ে গেলেও কমিশন চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এবার সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় ফের চিঠি পাঠালেন তিনি।
কী রয়েছে সংঘাতে?
নির্বাচনের ঠিক পরেই তৃণমূপ কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দেয়। দলের বেশ কয়েকজন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে পৃথক দল গঠনের দাবি তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটকীয় রাজনৈতিক পালাবদলে বর্তমানে তিনি রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার আসনে বসেছেন। যদিও কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রতর নিয়োগ অস্থায়ী এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে একক বেঞ্চ (Single Bench)।
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই আসল তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলীয় প্রতীক ও ফান্ডের দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। গত ২ জুলাই নির্বাচন কমিশনের তরফে কালীঘাট এবং ঋতব্রত—উভয় শিবিরকেই নোটিশ পাঠিয়ে প্রমাণসহ জবাব তলব করা হয়। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ কমিশনে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দেন। তবে ঋতব্রত শিবির অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় এবং বিনা কারণে কালক্ষেপ করার চেষ্টা করায় গত ২৯ জুলাই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশনের নীরবতায় বাড়ছে অস্বস্তি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম চিঠির পর কেটে গিয়েছে গোটা অগস্ট মাস। বিরোধ নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কমিশন এখনও রায় ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের প্রতীক এবং তহবিলের অধিকার এভাবে আইনি জটে আটকে থাকায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েই চলেছে।
আর কোনো রকম বিলম্ব বা কালক্ষেপ যে দল মেনে নেবে না, তা মমতার দ্বিতীয় চিঠির বয়ান থেকেই স্পষ্ট। চিঠিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অতি দ্রুত যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।