সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার সাতকাহন! বারবার কেন নার্ভাস নাইন্টিজের শিকার হচ্ছেন বিস্ময় বালক বৈভব?

ক্লিনিক্যাল হিটিং এবং অবিশ্বাস্য স্ট্রোক প্লে দিয়ে বৈভব সূর্যवंशी ক্রিকেট বিশ্বে নিজের নাম খোদাই করে নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর এই বর্ণোজ্জ্বল ও অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ক্রিকেট কেরিয়ারে এমন একটি মারাত্মক দুর্বলতা সামনে এসেছে, যা শুধু এই তরুণ তুর্কিকেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অগণিত ভক্তদেরও রীতিমতো হতাশ করছে। আর তা হলো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অভিশাপ—নার্ভাস নাইন্টিজের খপ্পরে পড়া। সাম্প্রতিক দুলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে ইস্ট জোনের হয়ে খেলতে নেমে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ব্যাটিং করছিলেন বৈভব। সেঞ্চুরির অত্যন্ত দোরগোড়ায় পৌঁছেও মাত্র ৮ রান দূরে হর্ষ দুবের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। এই ইনিংসটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা হওয়ার সুযোগ ছিল এবং তিনি দুলীপ ট্রফির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিকারী হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি এবং মাত্র কয়েক রানের জন্য সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড হাতছাড়া হয়ে যায়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নব্বইয়ের ঘরে এসে আউট হওয়াটা যেন বৈভবের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গত প্রায় দুই বছরের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যায়, তিনি অবিশ্বাস্যভাবে ৭ বার নার্ভাস নাইন্টিজের শিকার হয়েছেন। অর্থাৎ, সেঞ্চুরি করার সুবর্ণ সুযোগ তিনি মোট ৭ বার হেলায় হারিয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জুন শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া ‘এ’-র ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে। মাত্র ২৯ বলে বিধ্বংসী ৯৪ রান করে আউট হন তিনি। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে আইপিএল টুর্নামেন্টে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে রেকর্ড গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন বৈভব। এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে ৯৭ রানে এবং কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৯৬ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। এছাড়া লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধেও তিনি ৩৮ বলে ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ৯-এর ঘরে ফিরেছিলেন। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ার্ল্ড কাপের ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৯৬ রানের ইনিংস। আর গত বছরের ৪ নভেম্বর রঞ্জি ট্রফিতে বিহারের হয়ে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে ৯৩ রানে আউট হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করার সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। বৈভবের মতো এমন প্রতিভাবান ব্যাটারের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক এবং একই সঙ্গে ভীষণ চিন্তারও বটে।