চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিরাট ধাক্কা! আমেরিকার অর্থনীতিতে এমন অদ্ভুত মন্দা কেন এল, জানলে চমকে যাবেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জব মার্কেট নিয়ে সামনে এসেছে এক অদ্ভুত এবং চাঞ্চল্যকর চিত্র। একদিকে যখন দেশটির বেকারত্ব হার মাত্র ৪.১ শতাংশ—যা পরিসংখ্যানগতভাবে খুব একটা খারাপ নয় এবং বড় পরিসরে কোনো কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরও নেই—তখন অন্যদিকে নতুন চাকরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বর্তমান এই অদ্ভুত পরিস্থিতিকে নাম দিয়েছেন ‘No Hire, No Fire’ (নয়া নিয়োগ নেই, কর্মী ছাঁটাইও নেই) বা স্থবিরতার এক অদ্ভুত চক্র।
কেন এই অদ্ভুত মন্দা?
চলতি বছরে মার্কিন কোম্পানিগুলি প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ৬১ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছে, যা ২০২৩-২৪ সালের মাসিক গড় (প্রায় ১.৬৬ লক্ষ) তুলনায় অনেকটাই কম। এমনকি জুলাই মাসে উল্টো প্রায় ২৩ হাজার চাকরি ছাঁটাই হয়েছে। আমেরিকার এই অচলাবস্থার পেছনে বেশ কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে:
আর্থিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা: ট্রাম্প প্রশাসনের নানা ট্যারিফ নীতি এবং আমদানির ওপর কড়াকড়ির ফলে ব্যবসার খরচ বেড়ে গেছে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) প্রভাব: বহু কোম্পানি এখন এন্ট্রি-লেভেলের কাজের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে আধুনিক এআই টুলস ব্যবহার করতে শুরু করেছে।
কোম্পানিগুলির অতি-সতর্কতা: করোনা পরবর্তী সময়ে কর্মী ছাঁটাই করে পরে বিপাকে পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংস্থাগুলি এখন আর বড় ঝুঁকিতে যেতে চাইছে না। তাই তারা কর্মী না কমিয়ে কেবল নতুন নিয়োগ বন্ধ ও কাজের সময় কমিয়ে কাজ চালাচ্ছে।
চাকরিপ্রার্থীদের ওপর এর প্রভাব:
এই স্থবিরতার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন ফ্রেশার বা নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। অভিজ্ঞরা চাকরি বদলালেও নতুন এন্ট্রি বা ফ্রেশারদের জন্য সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে মাসের পর মাস ইন্টারভিউ দিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে চাকরিপ্রার্থীদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার এই ‘ফ্রোজেন জব মার্কেট’ বা বরফ জমে যাওয়া বাজার সহসা স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।