রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে মিলবে বিনামূল্যে ওষুধ ও বেড! ফ্লু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ বৈঠক যোগী সরকারের

উত্তরপ্রদেশে এইচ১এন১ (H1N1) ভাইরাস এবং লাগাতার বাড়তে থাকা মৌসুমী ফ্লু-র প্রকোপ মোকাবিলায় অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রিজেশ পাঠক লখনউয়ের স্বাস্থ্য ভবন কার্যালয় থেকে সমস্ত জেলার মুখ্য মেডিকেল অফিসার (CMO), সুপারিনটেনডেন্ট (CMS) এবং মেডিকেল কলেজগুলির অধ্যক্ষদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সিং বৈঠক করেন। এই বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি একাধিক অত্যন্ত জরুরি ও কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানান যে, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন জীবনদায়ী ওষুধের কোনো ঘাটতি না থাকে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সর্বদা মজুত রাখা হয়। পাশাপাশি, সোয়াইন ফ্লু ও সিজনাল ফ্লুর ল্যাব টেস্ট বা পরীক্ষাগার ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হাসপাতালের বেড এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বেআইনিভাবে অতিরিক্ত ফি আদায়কারী বেসরকারি পরীক্ষাগার বা প্যাথলজি মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার নির্ধারিত টেস্টের নির্দিষ্ট মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া যাবে না। যদি কোনো প্যাথলজি ল্যাব এই নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, পুরো প্রশাসন হাই অ্যালার্ট মোডে রয়েছে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রয়েছে। সুতরাং আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে কেবল সতর্কতা ও সচেতনতা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে লখনউ এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন অতিরিক্ত তৎপরতা শুরু করেছে। সংক্রামক রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাঁদের সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের ওপর কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের (DM) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই ফ্লুর লক্ষণগুলিকে অবহেলা না করেন।