অফিসের বিমাতেই কি ভরসা? হুট করে অসুস্থ হলে সর্বস্বান্ত হবেন না তো! এই ভুলগুলো করলেই বিপদে পড়বেন

সাধারণত আমরা সন্তান পড়াশোনা, বিয়ে কিংবা বাড়ি-গাড়ি কেনার জন্য বহু আগে থেকেই তিল তিল করে টাকা সঞ্চয় করি। কিন্তু চিকিৎসা বা জরুরি স্বাস্থ্য খরচের কথা ভেবে আলাদা করে আর্থিক প্রস্তুতি খুব কম মানুষই নিয়ে থাকেন। ফলস্বরূপ, হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনা ঘটে গেলে অর্থাভাবে প্রিয়জনের চিকিৎসা করাতে গিয়ে গয়না বন্ধক রাখা কিংবা চড়া সুদে ধার করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ। এই আর্থিক দুর্গতি থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র অব্যর্থ চাবিকাঠি হলো একটি সঠিক হেলথ ইনস্যুরেন্স বা স্বাস্থ্য বিমা। জরুরি চিকিৎসার বিপদে এটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক চাপ থেকে পরিবারকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেয়। তবে পলিসি কেনার আগে এর সমস্ত নিয়মকানুন ও শর্তগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
হেলথ ইনস্যুরেন্স কেনার সময় সবচেয়ে আগে নিজের বয়স, পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে সঠিক ‘সাম ইনসিওরড’ বা বিমার টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজারে মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে প্রত্যেকের অন্তত ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার একটি শক্তিশালী বেসিক কভার থাকা আবশ্যক। অনেকেই মনে করেন অফিসের দেওয়া গ্রুপ ইনস্যুরেন্সই যথেষ্ট, কিন্তু চাকরি চলে গেলে বা পরিবর্তন হলে সেই কভারও মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তাই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ব্যক্তিগত পলিসি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
পলিসি কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। অনেক পলিসিতে নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসার জন্য আলাদা খরচের সীমা বা সাব-লিমিট থাকে। পাশাপাশি, আগে থেকে থাকা কোনো রোগ বা ‘প্রি-এক্সিস্টিং ডিজিজ’-এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আইআরডিএআই-এর নিয়ম অনুযায়ী এই ওয়েটিং পিরিয়ড সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে। তাই পলিসি চূড়ান্ত করার আগেই ওয়েটিং পিরিয়ডের মেয়াদ কত দিন, তা ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। এছাড়া, আপনার কাছাকাছি বা এলাকার খ্যাতনামা হাসপাতালগুলি সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানির নেটওয়ার্ক তালিকার মধ্যে রয়েছে কি না এবং সেখানে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পুরোপুরি উপলব্ধ কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক।
শুধু বিমা কোম্পানির ‘ক্লেইম সেটলমেন্ট রেশিও’ দেখেই পলিসি কিনবেন না। বরং বিগত কয়েক বছরের ক্লেইম ডেটা, কোন কোন কারণে আবেদন বাতিল হয়েছে এবং তাদের কাস্টমার সার্ভিস কেমন, তা মিলিয়ে দেখা উচিত। পলিসিতে হাসপাতালের রুম ভাড়ার কোনো দৈনিক সীমা আছে কি না, কিংবা ছানি বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো অপারেশনে আলাদা কোনো সাব-লিমিট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কো-পেমেন্টের শর্ত থাকলে চিকিৎসার খরচের একটি নির্দিষ্ট অংশ পকেট থেকে দিতে হয়, তাই সবসময় ‘জিরো কো-পে’ পলিসি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পলিসির ‘এক্সক্লুশন লিস্ট’ বা বর্জনীয় তালিকাও মনোযোগ সহকারে পড়া উচিত, যাতে কোন কোন চিকিৎসার খরচ কোম্পানি দেবে না তা স্পষ্ট থাকে। কম প্রিমিয়ামের প্রলোভনে না পড়ে কভারেজের পরিধি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিন।