মাথায় হাত কৃষকদের! এক ধাক্কায় পাটের দাম কমল প্রায় অর্ধেক, ১৮ হাজার থেকে সোজা নামল ১০ হাজারে

আম ও রেশমের পাশাপাশি ‘সোনালী আঁশ’ পাট উৎপাদনে মালদহ জেলার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। নদী তীরবর্তী ও জলাভূমি এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পাট চাষ করেন কৃষকরা। কিন্তু চলতি মরশুমে আচমকাই পাটের বাজারদরে ভয়াবহ ধস নামায় গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। কিছুদিন আগেও যে উন্নতমানের পাট কুইন্টাল প্রতি প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা বর্তমানে এক ধাক্কায় নেমে এসেছে মাত্র ১০,৫০০ থেকে ১১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে পাটের দাম কার্যত অর্ধেকে এসে ঠেকেছে।

চাষিদের মাথায় হাত
কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গিটোলা এলাকার এক পাটচাষি মৃদুল মণ্ডল জানান, পাট চাষ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। জমি তৈরি, পরিচর্যা, ফসল কাটা, জলে পচানো থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে শুকনো করা পর্যন্ত প্রচুর পরিশ্রম ও ৫ থেকে ১০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন খরচ তো দূর অস্ত, অর্ধেকমূল্যে পাট বিক্রি করতে গিয়ে মার খাচ্ছেন তাঁরা। আরেক কৃষক গোবিন্দ মণ্ডল জানান, বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই কুইন্টাল পাট উৎপাদন হয়। এমনিতে নদীর জল বাড়ায় পাট তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জোর করে তা তুলে ফেলতে হচ্ছে, তার ওপর এমন দাম পতন কৃষকদের পথে বসার উপক্রম করেছে।

দাম হ্রাসের আসল কারণ কী?
মালদহ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান দুষ্মন্ত কুমার রাঘব জানান, এ বছর অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজারে জোগানের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকায় দাম কমেছে। কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি কমাতে মরশুম ও বাজারের চাহিদা বুঝে পাটের পাশাপাশি বিকল্প ফসল চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহের প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে (বিশেষ করে কালিয়াচক-২, ৩, রতুয়া ও মানিকচক এলাকায়) ব্যাপকহারে পাট চাষ হয়। নতুন জুট মিল চালুর ফলে ভবিষ্যতে ভালো লাভের আশা থাকলেও, বর্তমানের এই দরপতন কৃষকদের কপালে বড় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।