রূপচর্চায় বা ওষুধি গুণে অ্যালোভেরা খাচ্ছেন? অজান্তেই কিডনি ও লিভারের ১২টা বাজাচ্ছেন না তো!

প্রাকৃতিক ওষুধি গুণ এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা থেকে শুরু করে ওজন কমানোর জাদুকরী উপায় হিসেবে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর জুস আজ ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সকালের রুটিনে এক গ্লাস অ্যালোভেরা রস পান করা বা ফেসপ্যাক হিসেবে এর ব্যবহার স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদরা এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত পরিমাণে বা ভুল পদ্ধতিতে অ্যালোভেরা গ্রহণ করলে তা উপকারের চেয়ে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। বহু মানুষই এই প্রাকৃতিক উপাদানের ক্ষতিকর দিকগুলো না জেনেই মাত্রাতিরিক্ত সেবন করে চলেছেন, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি করছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, অ্যালোভেরা পাতার ঠিক নিচেই থাকা হলুদ রঙের কষ বা ল্যাটেক্স (Latex) অংশে অ্যালয় নামক একটি শক্তিশালী উপাদান থাকে, যা অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র পেটের গোলযোগ, পেট ফাঁপা এবং ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যালোভেরা জুস পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের মাত্রা হঠাৎ করে অনেক কমে যেতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার ওপর। এছাড়া যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম বা যাঁরা সুগার কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি হিতে বিপরীত ঘটাতে পারে, কারণ অ্যালোভেরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত মাত্রায় কমিয়ে দিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও এটি জরায়ুর সংকোচন ঘটিয়ে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।