সপ্তাহের শেষেই শেয়ার বাজারে চরম নাটক! হুড়মুড়িয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়াল সেনসেক্স-নিফটি?

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দালাল স্ট্রিটে চরম অস্থিরতা ও নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শেয়ার বাজার তার গতিপথ ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাজার খোলার পর शुरुआती ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সূচকগুলি তাদের প্রারম্ভিক লাভ পুরোপুরি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সপ্তাহের অন্তিম দিনে ভারতীয় শেয়ার বাজার বেশ খানিকটা চাপের মুখে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেলগুলি ধরে রাখতে বেশ লড়াই করতে হচ্ছে। দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ১০০ পয়েন্ট পতন ঘটে নিফটি (Nifty) ২৪,১০০-এর মানসিক স্তরের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সেনসেক্স (Sensex)-ও একসময় ৩০০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার পর বর্তমানে ৭৭,২০০-এর ঘরে অবস্থান করছে। মিশ্র প্রবণতার এই বাজারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ওঠানামা লক্ষ করা গেছে।

আজকের এই অস্থির ট্রেডিং সেশনে বেশ কিছু কোম্পানি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। যার মধ্যে জিএনজি ইলেকট্রনিক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি আইটি এবং প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট খাতের উল্লেখযোগ্য উত্থানের ফলে বাজারের সামগ্রিক মেজাজ আংশিক ইতিবাচক রয়েছে। এলটিএম (LTM), কোফোর্জ (Coforge), টিসিএস (TCS), পারসিস্টেন্ট (Persistent) এবং এইচসিএল টেকনোলজিস (HCLTech)-এর মতো টেক জায়ান্টগুলির শেয়ারে প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। বাজার খোলার ঠিক পরেই এথার এনার্জির শেয়ার ৫ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে এবং টাটা টেলিসার্ভিসেস (মহারাষ্ট্র)-এর শেয়ারের দর একলাফে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

তবে এর বিপরীতে বেশ কিছু হেভিওয়েট কোম্পানির শেয়ার বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। এশিয়ান পেইন্টসের শেয়ারের দাম ১.৩৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের শেয়ার ১.২০%, শ্রীরাম ফিনান্সের শেয়ার ১.২%, আল্ট্রাটেক সিমেন্টের শেয়ার ১.২% এবং বাজাজ ফিনসার্ভের শেয়ার ১.১% হ্রাস পেয়েছে। এছাড়াও টিভিএস মোটর কোম্পানির শেয়ার ৪.৪৯%, ওয়ার্লপুল অফ ইন্ডিয়ার শেয়ার ৩.৯২%, ফিজিক্সওয়ালার শেয়ার ৩.৫৪%, ক্রেডিটঅ্যাক্সেস গ্রামীণের শেয়ার ৩.২৭% এবং ভারত ডায়নামিক্সের শেয়ার ২.৭৭% পর্যন্ত কমে গেছে।

সেক্টরেওয়ার পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, অটোমোবাইল, মিডিয়া, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মা, ধাতু এবং রিয়েলটি খাতের শেয়ারের দর যথেষ্ট ইতিবাচক রয়েছে। তবে সিমেন্ট, রাসায়নিক, দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্যপণ্য (consumer durables) এবং এফএমসিজি (FMCG) খাতের শেয়ারগুলি তীব্র বিক্রির চাপের মুখে পড়েছে। আর্থিক খাতের চিত্রটি সম্পূর্ণ মিশ্র ছিল, যেখানে তেল ও গ্যাস খাতের অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় বজায় ছিল। সবমিলিয়ে আজকের বাজারে প্রযুক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু চক্রাকার খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট ঝোঁক লক্ষ্য করা গেছে। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিসাপেক্ষ। তাই যেকোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।