ডেঙ্গির থাবায় কেড়ে নিল দশ বছরের প্রাণ! দমদমের স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ এলাকা!

দমদমে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে দশ বছরের এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত ওই নাবালকের নাম জয়ষ্ণু মজুমদার। সে স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং তার পরিবার দক্ষিণ দমদম পৌরসভার বেদিয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করত। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

পরিবার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই জয়ষ্ণুর মা জ্বর ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মায়ের অসুস্থতার ঠিক পরপরই ১০ বছরের জয়ষ্ণুও প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তার রক্ত পরীক্ষা করানো হলে তাতে ডেঙ্গি পজিটিভ ধরা পড়ে। গতকাল সকালে হঠাৎ করেই নাবালকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে, যার ফলে পরিবার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডেঙ্গি সংক্রমণের জেরে শিশুটির শরীরে ‘অ্যাকিউট রেসপিরেশন নিউমোনিয়াল শক’ দেখা দিয়েছিল, যা এই মর্মান্তিক পরিণতির মূল কারণ।

মূলত প্রতি বছর বর্ষার এই নির্দিষ্ট সময়ে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এর পেছনে একাধিক ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণ রয়েছে। একদিকে একটানা বৃষ্টি এবং অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গায় জমা জলই হয়ে ওঠে ডেঙ্গির লার্ভা ও মশার প্রধান আঁতুরঘর। বিশেষ করে ফেলে রাখা পুরোনো টায়ার, পাত্র কিংবা জমা পরিষ্কার জলেই ডেঙ্গির মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শরীর পুরোপুরি ঢাকা পোশাক পরা এবং মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, চিকিৎসকদের মতে, সামান্য জ্বর বা ডেঙ্গির লক্ষণ দেখা দিলে এবং রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত সন্দেহে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে বেশ কিছু স্কুল পড়ুয়াকে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, জ্বর ও বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে গত দুদিনে হাসপাতালে বহু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে অনেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে খাদ্য ও জলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসকমহল ও প্রশাসনের একটাই আবেদন, ডেঙ্গির মতো বাহিত রোগ প্রতিরোধে এখন থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং সচেতন থাকুন।