‘শহরের পর শহর পুরো নিশ্চিহ্ন…’ নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল

প্রকৃতির এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও নির্মম রূপ দেখল নেপাল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত সুউচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে আচমকা ঘটে যাওয়া এক প্রলয়ংকরী তুষারধস এবং তার জেরে সৃষ্ট ‘জলবোমা’র আঘাতে নিমেষের মধ্যে তছনছ হয়ে গেছে নেপালের একের পর এক শহর ও জনপদ। বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেশটির বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এই জলপ্রলয়ে শহরগুলির পর শহর সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে মাত্র ৪.৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্পের পরই মাটি কেঁপে ওঠে এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই লাংটাং লিরুং বা সংলগ্ন অঞ্চলের প্রায় ২০০০ ফুট চওড়া হিমবাহের একটি প্রকাণ্ড বরফখণ্ড ধসে পড়ে। সটান চার হাজার ফুট নীচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার পর বরফ, জল, কাদা, পাথর এবং প্রকাণ্ড সব বোল্ডার মিলে মুহূর্তের মধ্যে এক ভয়ংকর ‘জলবোমা’ বা সুনামির রূপ নেয়। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে তীব্র গতিতে নেমে আসা এই সর্বনাশা স্রোতের সামনে কোনো কিছু টিকতে পারেনি।
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের জেরে নেপালজুড়ে চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে এক হাজারের বেশি মানুষের কোনো খোঁজ মিলছে না। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কবলে পড়ে অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি, পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যটকের সঙ্গেও কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, নেপাল সরকার বিভিন্ন দেশের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে এবং এই সঙ্কটকালে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ভারত থেকে ইতিমধ্যেই জরুরি ত্রাণসামগ্রী কাঠমান্ডুতে এসে পৌঁছেছে।