নেপালে জলপ্রলয়! ১০৫ জন ভারতীয় সহ প্রায় ৪০০ নিখোঁজ, আজ রাতেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে উড়ছে বায়ুসেনার সি-১৭ বিমান

নেপালে নেমে এল এক ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়। হিমবাহ ভেঙে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলছে। এই বিপর্যয়ে অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক সহ প্রায় ৪০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। আজ রাতেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি ভারী বিমান সি-১৭-এর।

জলপ্রলয়ের নেপথ্যে কোন কারণ? কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC) সূত্রে জানা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যা (GLOF) সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে ফুরকে খোলার কাছে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর আচমকাই মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জলের ঢেউ গণ্ডক নদীতে আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত বিহার এবং উত্তর প্রদেশের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

উদ্ধার কাজে নামছে এনডিআরএফ এবং বায়ুসেনা: পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজের জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ বিমান প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি, বিহার ও উত্তর প্রদেশ মিলিয়ে মোট ২০টি এনডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ ও মুজাফফরপুর এবং উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে বাড়তি দল মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নিখোঁজদের তালিকায় বহু বিদেশি নাগরিক: নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই আকস্মিক বন্যায় ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক সহ মোট ৩৯৪ জন মানুষ নিখোঁজ। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক ছাড়াও আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের ভ্রমণকারীরাও রয়েছেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।