৬০% কর্মী ছাঁটাই করে সব কাজ এআই-কে দিতে চেয়েছিলেন জুকারবার্গ! কিন্তু কোন এক ভুলে ভেস্তে গেল গোপন ‘প্রজেক্ট ওটি’?

প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক বিরাট বিপর্যয় এবং গোপন ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হলো। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ কোম্পানির হাজার হাজার কর্মীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে প্রতিস্থাপন করার একটি অত্যন্ত গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন। ‘প্রজেক্ট ওটি’ (অর্গানাইজেশনাল ট্রান্সফরমেশন) নামের এই গোপন প্রকল্পের মাধ্যমে কোম্পানির ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাপক অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ এবং এআই প্রযুক্তির চরম ব্যর্থতার জেরে সেই পরিকল্পনা মাঝপথেই স্থগিত করতে বাধ্য হন জাকারবার্গ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বছরের জানুয়ারিতে হাওয়াইতে নিজের বাড়িতে বসে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন জাকারবার্গ। লক্ষ্য ছিল মেটাকে একটি সম্পূর্ণ ‘এআই নেটিভ’ কোম্পানিতে পরিণত করা। ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা ছিল মে থেকে নভেম্বরের মধ্যে দুটি ধাপে এই বিশাল কর্মী ছাঁটাই কার্যকর করা এবং সেই বাঁচানো টাকা শীর্ষস্থানীয় এআই ইঞ্জিনিয়ারদের পেছনে বিনিয়োগ করা।

কিন্তু মার্চ মাসেই সেই সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কোম্পানির অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন মেটা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কম্পিউটারে এমন একটি ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ইনস্টল করে, যা কিবোর্ড ও মাউস ক্লিকের সংখ্যা রেকর্ড করতে শুরু করে। কর্মীরা বুঝতে পারেন যে তারা এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যা তাদের নিজেদেরই চাকরি কেড়ে নেবে। ফলস্বরূপ, কর্মীদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকে এবং তারা কোম্পানির শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এদিকে, জাকারবার্গ যে প্রযুক্তির ওপর অন্ধের মতো ভরসা করেছিলেন, সেই এআই সিস্টেম নিজেই একের পর এক ভুল করতে শুরু করে। কোডিংয়ের গতি কিছুটা বাড়লেও, অনিয়ন্ত্রিত এআই এজেন্টদের কারণে প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত গোলযোগ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে মেটার নতুন এআই সাপোর্ট বটের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পুরোনো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি পর্যন্ত হ্যাক করে ফেলে।

অবশেষে সমস্ত দিক থেকে চাপ বাড়তে থাকায়, গত ১৯ মে রাতে প্রথম দফার কর্মী ছাঁটাইয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাহীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন জাকারবার্গ। তিনি অবিলম্বে নভেম্বরের দ্বিতীয় দফার বড় কর্মী ছাঁটাই বাতিল করেন এবং পরদিন মাত্র ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে পরিস্থিতি সামাল দেন। একই সঙ্গে কর্মীদের ওপর চলা মাউস ট্র্যাকিংও স্থগিত করা হয়। বর্তমানে মেটা নিজেকে মানব-সহায়ক এআই প্রস্তুতকারী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এআই বাজেট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে জাকারবার্গকে।