ইউরোপে পুড়ে ছাই হচ্ছে রেকর্ড! ভারতে তীব্র গরমেও মিলছে অদ্ভুত স্বস্তি? আসল কারণ জানলে চমকে উঠবেন

২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের সাক্ষী হয়েছে গোটা ইউরোপ। ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর তাদের গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে অস্বাভাবিক উষ্ণ দেশগুলির তালিকায় শীর্ষে ছিল ফ্রান্স। তীব্র গরমে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসার পাশাপাশি বন্ধ রাখতে হয়েছে বেশ কিছু পারমাণবিক চুল্লি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে আগেভাগেই বন্ধ করতে হয়েছে আইফেল টাওয়ার ও ল্যুভর মিউজিয়াম। বাধ্য হয়ে কমাতে হয়েছে বহু স্কুলের ক্লাসের সময়ও।

চলতি বছরের জুনে স্পেনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফ্রান্সে ৪৪.৩ এবং জার্মানিতে ৪১.৭ ডিগ্রি। ইতিমধ্যেই পশ্চিম ইউরোপে অতিরিক্ত গরমে মৃত্যুর সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই মৃত্যুর পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এমনকি ইউরোপের এই তাপপ্রবাহকে ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

অন্যদিকে, একই সময়ে ভারতের আবহাওয়ার চিত্রটি বেশ ব্যতিক্রমী। যেখানে অতীতে (যেমন ২০২৪ সালে দিল্লিতে ৫২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) চরম গরমের রেকর্ড দেখা গিয়েছে, সেখানে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে দেশের কোথাও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছুঁতে পারেনি।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল শ্র্যাগের মতে, বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশীয় অঞ্চলের তুলনায় ভারত অপেক্ষাকৃত ধীর গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে দেশের ব্যাপক সেচব্যবস্থা। অতিরিক্ত সেচের ফলে জল বাষ্পীভূত হয়ে মাটির তাপমাত্রা কিছুটা কম রাখে এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায়। পাশাপাশি, তীব্র বায়ুদূষণের কণাগুলোও সূর্যের ক্ষতিকর আলো প্রতিফলিত করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করছে।

তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এই সাময়িক সুরক্ষা খুব বেশি দিন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। দেশের ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার বিপজ্জনকভাবে কমে আসছে, যার ফলে ভবিষ্যতে বর্তমান মাত্রার সেচ ব্যবস্থা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দূষণ মাত্রাতিরিক্তভাবে কমলে সূর্যালোক প্রতিফলনের সেই প্রাকৃতিক শীতল প্রভাবও চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে ভারতকে আরও বড় বিপদের মুখে ফেলতে পারে।