‘এত দূরে আছে ট্রেন!’ রেললাইনে রিল শ্যুট করতে গিয়েই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মর্মান্তিক পরিণতি যুবতীর

ঝাড়খণ্ডের গঢ়বা জেলায় সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানানোর নেশা কেড়ে নিল এক তরুণীর স্বাভাবিক জীবন। মঙ্গলবার নগর উন্টারী স্টেশনের কাছে রেললাইনে রিল শুট করতে গিয়ে রাঁচি-চোপান এক্সপ্রেসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন ১৯ বছরের এক তরুণী। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর দুটি হাতই কেটে বাদ দিতে হয়েছে এবং শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের কারণে বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আহত ওই তরুণীর নাম পূর্ণিমা কুমারী, যিনি গঢ়বার বিহার এলাকার বাসিন্দা ধীরজ সিংহের কন্যা। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানাতেন তিনি। ঘটনার দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার রাইসায় রেললাইনের ওপরে রিল তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পূর্ণিমা ও তাঁর বন্ধুরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রেন এগিয়ে আসার সময় তাঁকে সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রেনটি অনেক দূরে রয়েছে এবং তার গতি কম—এমন ভুল ধারণা থেকেই রেললাইন থেকে সরে আসেননি তিনি। আর সেই ভুল ধারণাই তাঁর জীবনে ডেকে আনে চরম বিপর্যয়। চোখের নিমেষে সটান এসে ধাক্কা মারে রাঁচি-চোপান এক্সপ্রেস।

দুর্ঘটনার পর পরই সঙ্গীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গঢ়বা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা শুরু হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ণিমার শারীরিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁর দুই হাত বাদ যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লেগেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, ভিউ এবং ফলোয়ার বাড়ানোর অন্ধ মোহে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যে কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল। রেললাইন, জলের তোড়, নদী, জলপ্রপাত কিংবা বহুতল ভবনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিল বানানোর প্রবণতা কিছুতেই কমছে না। বারবার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার পরেও তরুণ সমাজের একাংশ যে বিন্দুমাত্র সচেতন নয়, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।

বিশেষজ্ঞ ও পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, বিপজ্জনকভাবে স্টান্ট বা রিল তৈরি করতে গিয়ে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ভারতেই। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ ভুক্তভোগীই তরুণ প্রজন্মের, যাদের বয়স ১০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। কিছুদিন আগেই দিল্লিতে রিল বানাতে গিয়ে নিজের গুলিতেই প্রাণ হারিয়েছিলেন এক যুবক। আবার ফরিদাবাদে এসইউভি গাড়ি চালিয়ে রিল বানানোর সময় খাদে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল দুই কিশোরের। সোশ্যাল মিডিয়ার এই হঠকারী নেশা আজ দেশের তরুণ প্রজন্মকে কোন অন্ধ গলির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এই প্রশ্নই এখন জোরালোভাবে উঠছে সচেতন মহলে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty