ভোরে জঙ্গল থেকে ফেরার পথেই কাল হলো ঘুম! মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তোলপাড় শিলিগুড়ি

সকাল সকাল ডুয়ার্সের বিখ্যাত লাটাগুড়ির জঙ্গল চত্বরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লাটাগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগামী গাড়ি রাস্তার ধারের একটি বিশাল গাছে সজোরে ধাক্কা মারে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিতলি রায় (১৮) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর জখম অবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির এনজেপি সংলগ্ন এলাকার চার তরুণ-তরুণী—শান সরকার (২০), রাহুল দাস (২১), ইশা মুখোপাধ্যায় (২১) এবং মৃত তিতলি রায় (১৮)—খুব ভোরে একটি গাড়িতে করে লাটাগুড়ির দিকে ঘুরতে এসেছিলেন। আনন্দময় ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে যায় এই বিপত্তি। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটি অত্যন্ত অতিরিক্ত গতিতে লাটাগুড়ির জঙ্গলের রাস্তা ধরে শিলিগুড়ির দিকে ছুটছিল। তখনই চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে রাস্তার ধারের গাছে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাঁরাই প্রথম গাড়ি থেকে রক্তস্নাত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তিতলি রায়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।

গুরুতর আহত রাহুল দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। অন্যদিকে, অপর দুই আহত আরোহী শান সরকার ও ইশা মুখোপাধ্যায় বর্তমানে মালবাজার হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পেছনের আসল কারণ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গাড়ির আরোহী শান সরকার। তিনি জানান, সকাল থেকে গাড়িটি তিনিই ড্রাইভ করছিলেন। কিন্তু বাড়ি থেকে অনেক ভোরে বের হওয়ায় এবং ফেরার পথে চোখে ঘুম নেমে আসায় তিনি স্টিয়ারিং তুলে দেন বন্ধু রাহুলের হাতে। আর এরপরেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শানের এই বক্তব্যের পর মনে করা হচ্ছে, ড্রাইভিং সিটে থাকা রাহুল ঘুমের ঘোরে গাড়ি চালানোর ফলেই এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তবে এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চার বন্ধু সকালে শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি লাটাগুড়ি গিয়েছিলেন, নাকি তাঁরা আগের দিন রাতেই সেখানে অবস্থান করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, গাড়িতে থাকা তরুণ-তরুণীরা অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুদীপ্ত সরকার জানিয়েছেন যে, পুরো ঘটনাটির পিছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যেই একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty