রেল পরিষেবা ও পরিকাঠামোয় আসছে বিরাট পরিবর্তন! উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ৯৮তম বৈঠকে কোন বড় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হলো?

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জোনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটি (ZRUCC)-এর ৯৮তম বৈঠক অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তবের সভাপতিত্বে এবং ডিজিএম ও জেডআরইউসিসি-র সচিব শ্রী অনুরাগ আগরওয়ালের পরিচালনায় এই উচ্চপর্যায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এই অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। মাননীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির ডাঃ জয়ন্ত কুমার রায়, মালদহ উত্তরের শ্রী খগেন মুর্মু, অরুণাচল পূর্বের শ্রী তাপির গাও, সিকিমের ডোকরি ইন্দ্র হ্যাং সুব্বা, অসমের করিমগঞ্জের শ্রী কৃপানাথ মাল্লা এবং নাগাল্যান্ডের শ্রীমতী এস ফাংগনোন কন্যাক। এছাড়া নাগাল্যান্ডের বিধানসভার মাননীয় সদস্য শ্রী এ. পংশি ফোম এবং মিজোরামের লেফট্যানেন্ট কর্নেল ক্লিমেন্ট লালমিংথাঙ্গাও বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বরিষ্ঠ আধিকারিক, সংসদীয় প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রেল পরিষেবা ব্যবহারকারী সমিতির সদস্যরাও উপস্থিত থেকে বৈঠকটিকে এক প্রাণবন্ত ও গঠনমূলক মতবিনিময়ের মঞ্চে পরিণত করেন।

বৈঠকের শুরুতে উপস্থিত সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে জেনারেল ম্যানেজার শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তব রেল পরিষেবার মানোন্নয়নে সকলের কাছে মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আহ্বান করেন। তিনি জানান যে সদস্যদের প্রতিটি সুচিন্তিত পরামর্শ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে। তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির রাজধানীগুলির সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বিভিন্ন চলমান সংযোগ ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে রেলওয়ের বৈদ্যুতিকীকরণ, ট্রেন পরিষেবার সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত স্টপেজের ব্যবস্থা, বন্যা-কবলিত পরিষেবা পুনরুদ্ধার এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। রেলওয়ে বৈদ্যুতিকীকরণ ইতিমধ্যে ৪,১৭০ আরকেএম পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যাত্রীদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে সমগ্র অঞ্চলে ১৫টি নতুন ট্রেন পরিষেবা এবং ২৫০টিরও অধিক অতিরিক্ত স্টপেজ চালুর কথা ঘোষণা করা হয়। বাজেট থেকে প্রাপ্ত বর্ধিত সহায়তার কথা উল্লেখ করে জেনারেল ম্যানেজার ভৈরবি-সাইরাং প্রকল্প, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশের রেলওয়ে প্রকল্প, তিনসুকিয়া পর্যন্ত রেললাইন দ্বৈতকরণের কাজ এবং নতুন সরাইঘাট ব্রিজের মতো বড় প্রকল্পগুলির অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। ‘অমৃত স্টেশন স্কিম’-এর আওতায় ৯২টি স্টেশনের আধুনিক পুনর্বিকাশ এবং এটিভিএম, ওয়াটার ভেন্ডিং মেশিন ও কিউআর-ভিত্তিক টিকিটিং সুবিধার মতো আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য নতুন ‘গতি শক্তি’ কার্গো টার্মিনাল এবং যোগীঘোপা মাল্টি-মোডাল লজিস্টিকস পার্ক স্থাপনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সুরক্ষা ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মাননীয় সংসদ সদস্য ও বিধায়করা রেল পরিষেবা ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও পরামর্শ পেশ করেন। শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তব তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে সমস্ত বাস্তবসম্মত পরামর্শ অগ্রাধিকার ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই সফল বৈঠকটি উন্নত সংযোগ, যাত্রীদের জন্য উৎকৃষ্টতর পরিষেবা এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করার যৌথ অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।