‘আমেরিকায় দিনে রোজগার ২০ হাজার, আর ভারতে পেতাম ২০ হাজারও নয়!’ যুবকের কোন মন্তব্যে ঘুরল সোশ্যাল মিডিয়ার মাথা?

আমেরিকায় বসবাসকারী এক ভারতীয় নাগরিক তথা হোটেল শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মী আরহাম ইশতিয়াকের একটি সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় তুলেছে। ভিডিওটিতে আরহাম দাবি করেছেন যে, বিদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত একজন কুড়ি বছরের তরুণ এবং একজন প্রতিষ্ঠিত চল্লিশ বছরের প্রবীণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম দেয়। তাঁর মতে, চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের কাছে পর্যাপ্ত সঞ্চয় ও সম্পত্তি থাকায় ভারতে ফেরাটা অনেকটাই সহজ হয়। কিন্তু কর্মজীবনের একেবারে প্রারম্ভে থাকা কুড়ির কোঠার তরুণদের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা এবং বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।

আরহাম তাঁর ভিডিওতে এনআরআই (NRI) বা অনাবাসী ভারতীয়দের মূলত দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণিটি হলো সেই সমস্ত তরুণ-তরুণী, যারা বিদেশের মাটিতে নিজেদের কেরিয়ার গড়তে প্রতিদিন কঠিন সংগ্রাম করছেন। আর দ্বিতীয় শ্রেণিটি হলো সেই সমস্ত সচ্ছল ব্যক্তি, যারা বয়সের বিচারে চল্লিশের কোঠায় এবং আর্থিকভাবে পুরোপুরি স্থিতিশীল। আরহামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব প্রবাসী আমেরিকায় বার্ষিক ২ লক্ষ ডলার (প্রায় ২ কোটি টাকা) পর্যন্ত উপার্জন করেন, তাঁরা পরবর্তীকালে ভারতে ফিরে এসে বার্ষিক ১ কোটি টাকার বেতনেও অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবন কাটাতে পারেন, কারণ তাঁদের একটি শক্তপোক্ত আর্থিক ব্যাকআপ বা সঞ্চয় আগে থেকেই তৈরি থাকে।

নিজের কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরহাম জানান যে, অতীতে ভারতের হোটেল শিল্পে তাঁর পক্ষে মাসে ২০,০০০ টাকা উপার্জন করাও অত্যন্ত কঠিন ছিল। অথচ আজ তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র একদিনেই এর চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করেন। এই বিশাল ব্যবধানের কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সুযোগ-সুবিধা এবং আয়ের পরিমাণের দিক থেকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। তবে এর মাধ্যমে তিনি কাউকে চিরকালের জন্য ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন না, বরং তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের কমফোর্ট জোন বা স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বকে দেখার এবং স্বাধীনভাবে লড়াই করার তাগিদ দিয়েছেন।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty