জ্বর-কাশি আর শ্বাসকষ্টে কাঁপছে দেশ! আচমকা কি কামব্যাক করল করোনা? আসল সত্যিটা ফাঁস করল কেন্দ্র!

সারা দেশজুড়ে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ। এই পরিস্থিতি দেখে সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি ফের ফিরে এল করোনা? নাকি এর পেছনে রয়েছে মারণ H1N1 ভাইরাসের হাত? পরিস্থিতি ঠিক কতটা সঙ্কটজনক এবং সাধারণ মানুষের করণীয় কী, তা নিয়ে এবার একযোগে মুখ খুলল কেন্দ্র সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার বিন্দুমাত্র কারণ নেই।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (MoHFW), স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ (DHR), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (NCDC) যৌথভাবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত সতর্ক নজর রাখছে। নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে DHR-এর সচিব এবং ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল ড. রাজীব বাহল জানান, দেশে এখন মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। তবে গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্র সম্পূর্ণ সচেতন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। এই মুহূর্তে দেশে যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসগুলি ছড়াচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি দেশে H1N1 ভাইরাসের কিছু বাড়বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যেগুলি মূলত A/Missouri/11/2025 (H1N1) pdm09-র অনুরূপ। ড. বাহল ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ভাইরাসের জিনে যে পরিবর্তনগুলি দেখা যাচ্ছে, সেগুলি ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। অর্থাৎ, ভাইরাসের এই ছোটখাটো জিনগত পরিবর্তনকে নতুন বা বিপজ্জনক কোনো স্ট্রেনের আবির্ভাব হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি যার ফলে নতুন কোনো মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের সাধারণ জ্বরজারি থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিজে থেকেই সেরে ওঠা সম্ভব।

বর্তমানে যে ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণগুলি দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রবল জ্বর, শুকনো বা ভেজা কাশি, গলা ব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীরে ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং শারীরিক দুর্বলতা। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পরিমাণে জল ও প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিচর্যার মাধ্যমেই এই উপসর্গগুলি ধীরে ধীরে কমে যায়। শুধু H1N1 পজিটিভ এসেছে বলেই যে রোগীর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হয়ে পড়বে বা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।

তবে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, ছোট শিশু কিংবা যাঁদের আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের গুরুতর শারীরিক সমস্যা বা কো-মর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যদি ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গগুলি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করে, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা দিন দিন বাড়তে থাকে, তবে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty